ভালো নম্বর মানেই সুস্থ মন নয়, সন্তানের মানসিক চাপের ৭ নীরব সংকেত - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভালো নম্বর মানেই সুস্থ মন নয়, সন্তানের মানসিক চাপের ৭ নীরব সংকেত

Spread the love

কলকাতা: পরীক্ষায় ভালো নম্বর, শিক্ষকদের প্রশংসা, নিয়মিত পড়াশোনা, এসব দেখেই অনেক অভিভাবক মনে করেন, তাঁদের সন্তান নিশ্চয়ই ভালো আছে (Child Mental Health)। কিন্তু শিশু মনোবিদদের…

কলকাতা: পরীক্ষায় ভালো নম্বর, শিক্ষকদের প্রশংসা, নিয়মিত পড়াশোনা, এসব দেখেই অনেক অভিভাবক মনে করেন, তাঁদের সন্তান নিশ্চয়ই ভালো আছে (Child Mental Health)। কিন্তু শিশু মনোবিদদের মতে, ভালো রেজাল্ট মানেই সুস্থ মানসিক অবস্থা নয়।

বর্তমানে পড়াশোনার প্রতিযোগিতা, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে তুলনা এবং পরিবার-সমাজের প্রত্যাশার চাপে অনেক শিশু নীরবে মানসিক চাপ বহন করে। অনেকেই নিজের কষ্ট প্রকাশ করে না। তাই সন্তানের আচরণের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

১. সবকিছু নিখুঁত করতে চাওয়ার প্রবণতা
সামান্য ভুল হলেই বারবার একই কাজ করা, নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ নেওয়া কিংবা একটি নম্বর কম পেলেও ভেঙে পড়া—এসব পারফেকশনিজমের লক্ষণ হতে পারে।
এই ধরনের শিশুরা প্রায়ই মনে করে, তাদের সাফল্যের উপরই বাবা-মায়ের ভালোবাসা বা স্বীকৃতি নির্ভর করছে। দীর্ঘদিন এমন মানসিকতা থাকলে উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

২. বারবার শরীর খারাপের অভিযোগ
মাথাব্যথা, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি বা স্কুলে যাওয়ার আগে অসুস্থ লাগা, এসবের চিকিৎসাগত কারণ না থাকলেও এগুলো মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের উদ্বেগ অনেক সময় শরীরের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।

৩. স্কুলে শান্ত, বাড়িতে হঠাৎ রাগ
অনেক শিশু স্কুলে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত থাকে। কিন্তু বাড়ি ফিরেই অকারণে রেগে যায়, কান্নাকাটি করে বা ছোটখাটো বিষয়েও বিরক্ত হয়।
মনোবিদদের মতে, বাড়িকে নিরাপদ জায়গা মনে করেই তারা সারাদিনের চেপে রাখা আবেগ প্রকাশ করে।

৪. নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলা
যদি সন্তান বারবার বলে—
• “আমি কিছুই পারি না”
• “আমার দ্বারা কিছু হবে না”
• “আমি সবার জন্য সমস্যা”
তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
এগুলো আত্মসম্মানবোধ কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

৫. অতিরিক্ত ‘সরি’ বলা বা বারবার আশ্বাস চাওয়া
সামান্য ভুলের জন্যও যদি সন্তান বারবার ক্ষমা চায় কিংবা জিজ্ঞাসা করে—
• “তুমি কি আমার ওপর রাগ করেছ?”
• “আমি ঠিক করেছি তো?”
তাহলে বুঝতে হবে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে।

৬. খেলাধুলা ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া
আগে যে শিশু বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাত, খেলাধুলা করত বা নিজের শখে মেতে থাকত, সে যদি ধীরে ধীরে সবকিছু ছেড়ে শুধুই পড়াশোনায় ডুবে যায় বা একা থাকতে শুরু করে, তাহলে সেটি মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে।

৭. ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন
ঘুম না হওয়া, মাঝরাতে বারবার জেগে ওঠা, খুব কম বা খুব বেশি খাওয়া কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা—এসবও উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ হতে পারে।

অভিভাবকদের কী করা উচিত?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে
• প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলুন।
• তার অনুভূতি মন দিয়ে শুনুন।
• নম্বরের চেয়ে চেষ্টা ও পরিশ্রমকে গুরুত্ব দিন।
• ভুল করলে শাস্তি নয়, পাশে থাকার বার্তা দিন।
• তুলনা না করে উৎসাহ দিন।
• দীর্ঘদিন আচরণে পরিবর্তন থাকলে শিশু মনোবিদ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।

শুধু নম্বর নয়, সন্তানের মনও বুঝুন

একটি ভালো রিপোর্ট কার্ড ভবিষ্যতের অনেক দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য ছাড়া সেই সাফল্য কখনও পূর্ণতা পায় না।
তাই শুধু পরীক্ষার ফল নয়, সন্তানের হাসি, কথা, আচরণ, ঘুম, খাওয়া এবং আবেগের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
অনেক সময় মাত্র একটি প্রশ্নই বড় পরিবর্তন আনতে পারে

“তুমি সত্যিই কেমন আছ?”

এই ছোট্ট প্রশ্নই হয়তো একটি শিশুকে নীরব মানসিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সাহস দিতে পারে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *