হুগলির তল দিয়ে চালকবিহীন মেট্রো, স্বাধীনতা দিবসের আগেই বড় চমক কলকাতায়
কলকাতা: সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী এক মাসের মধ্যেই হুগলি নদীর তল দিয়ে চালকবিহীন (Driverless) মেট্রো পরিষেবা চালু হতে পারে কলকাতায়। সূত্রের খবর, ১৫…
কলকাতা: সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী এক মাসের মধ্যেই হুগলি নদীর তল দিয়ে চালকবিহীন (Driverless) মেট্রো পরিষেবা চালু হতে পারে কলকাতায়। সূত্রের খবর, ১৫ অগস্টের মধ্যেই গ্রিন লাইন ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর (East West Metro) অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন (ATO) চালুর লক্ষ্য নিয়েছে মেট্রো রেল।
যদিও ট্রেনে একজন মোটরম্যান উপস্থিত থাকবেন, তাঁর ভূমিকা মূলত যাত্রীদের আশ্বস্ত করা। ট্রেনের সম্পূর্ণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কের অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার (OCC) থেকে।
মিলেছে রেল নিরাপত্তা কমিশনারের অনুমোদন
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত সার্কেলের কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (CRS) ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ১৬.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডরে চালকবিহীন পরিষেবা চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। এই করিডরের মধ্যেই রয়েছে হুগলি নদীর নিচে ৫২০ মিটার দীর্ঘ দুটি টানেল।
রবিবার CRS-এর উপস্থিতিতে সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত সফলভাবে চালকবিহীন ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। সোমবার উভয় লাইনে কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল (CBTC) প্রযুক্তির অনুমোদনও মিলেছে।
Also Read | ১৮ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা, রবীন্দ্র সদনে বিশেষ অনুষ্ঠান
কী বদলাবে?
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই CBTC সিগন্যালিং ব্যবস্থা ব্যবহার হচ্ছে। এবার সেটিকে আরও উন্নত করে উচ্চমাত্রার স্বয়ংক্রিয় (Highly Automated) পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বর্তমানে গ্রিন লাইনে Automatic Train Protection (ATP) মোড চালু রয়েছে, যেখানে চালকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ATO চালু হলে ট্রেনের গতি, থামা ও চলার মতো অধিকাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
Also Read | কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে নতুন মাইলফলক! ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশনে টিবিএম ‘দুর্গা’র সফল ব্রেকথ্রু
বাড়বে ট্রেনের সংখ্যা ও পরিষেবা
কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (KMRC) কাছে বর্তমানে BEML নির্মিত ১৭টি রেক রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি রেক নিয়মিত যাত্রী পরিষেবায় চলছে।
চালকবিহীন ব্যবস্থা চালু হলে আরও চারটি নতুন রেক পরিষেবায় যুক্ত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। গত এক বছর ধরে ৬০৩ ও ৬০৬ নম্বর রেকে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
এছাড়া সোমবার থেকে বাণিজ্যিক পরিষেবা শেষ হওয়ার পর আরও ১৪টি রেককে ধাপে ধাপে ATO মোডে আপগ্রেড করার কাজ শুরু হয়েছে।
যাত্রীদের কী সুবিধা হবে?
মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, চালকবিহীন প্রযুক্তি চালু হলে,
• ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো সম্ভব হবে।
• অপেক্ষার সময় কমবে।
• পরিষেবা আরও নির্ভুল ও সময়নিষ্ঠ হবে।
• উন্নত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তার মান আরও শক্তিশালী হবে।
ভারতের প্রথম নদীগর্ভ মেট্রো প্রকল্প হিসেবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে। এবার চালকবিহীন পরিষেবা চালু হলে কলকাতা দেশের অন্যতম আধুনিক মেট্রো ব্যবস্থার শহর হিসেবে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।