শোয়েব-আসিফদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের বিস্ফোরক দাবি, ফের চর্চায় বব উলমার মৃত্যু
বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ভারতে খেলতে এসে মাদক পাচার করতেন শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar) এবং মহম্মদ আসিফরা। আর দলের ক্রিকেটারদের দিয়ে এই মাদক পাচারের তীব্র…
বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ভারতে খেলতে এসে মাদক পাচার করতেন শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar) এবং মহম্মদ আসিফরা। আর দলের ক্রিকেটারদের দিয়ে এই মাদক পাচারের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন বলেই রহস্যজনকভাবে খুন হতে হয় পাকিস্তানের তৎকালীন কোচ বব উলমারকে! সম্প্রতি এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আধিকারিক আরভিএস মণি।
২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মণি একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তান ক্রিকেট দল বা তাদের কোনও প্রতিনিধি দল ভারতে এলেই সঙ্গে করে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে আসত। আর এই মাদক মোটেও তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছিল না। মণির কথায়, “পাক দলের আড়ালে ভারতে মাদক পাচার করাই ছিল পাকিস্তানের একটা বড় সরকারি নীতি। ভারতে জঙ্গি হামলার অন্তত ৩০ শতাংশ অর্থই আসত এই মাদকের ব্যবসা থেকে। আমরা তখন বলতাম, জালালাবাদে আফিমের ফলন বেশি হলে ভারতের উপর জঙ্গি হামলাও বাড়বে।”
Also Read | FIFA বিশ্বকাপে সুযোগ পেল ভারত! কাপ জেতার হুংকার রঞ্জিত বাজাজের
২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত বিশ্বকাপের মাঝেই হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় উলমারের মৃতদেহ। সেই মৃত্যু ঘিরে সেসময় বিস্তর জলঘোলা হলেও আসল কারণ আজও ধোঁয়াশায় ঢাকা। মণির দাবি, দলের ক্রিকেটারদের এই মাদক পাচারের চক্রটি ধরে ফেলেছিলেন উলমার। তিনি এর তীব্র বিরোধিতাও করেছিলেন। আর সেই কারণেই পাচারকারীদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন তিনি। মণির স্পষ্ট অভিযোগ, মাদক পাচারের পর্দাফাঁস রুখতেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এই ব্রিটিশ কোচকে।
এই চক্রের অন্যতম প্রধান পান্ডা হিসেবে মণি সরাসরি নাম করেছেন পাকিস্তানের দুই প্রাক্তন স্পিডস্টার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফের। ২০০৬ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই দুই ক্রিকেটার ভারতে মাদক নিয়ে আসার কথা স্বীকারও করেছিলেন। বেগতিক বুঝে তৎকালীন পাক দূতাবাস তড়িঘড়ি তাঁদের দেশে ফেরত পাঠায়। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর ঠিক আগেই ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল শোয়েব ও আসিফকে। পিসিবি তাঁদের নির্বাসিতও করেছিল। কিন্তু মণির দাবি অনুযায়ী, সেই ঘটনার নেপথ্যে ডোপিংয়ের চেয়েও বড় কারণ ছিল এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র।
Also Read | এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২৩ অ্যাথলেটিক্সে ভারতের দাপট, ৩ সোনাসহ ১৬ পদক জয়
মণি জানিয়েছেন, শুধু শোয়েব বা আসিফই নন, পাকিস্তানের আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যাঁদের নাম কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। প্রাক্তন এক শীর্ষ আমলার মুখ থেকে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২২ গজের লড়াইয়ের আড়ালে যে এমন আন্তর্জাতিক মাদক ও সন্ত্রাসবাদের জাল বিছানো থাকতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।