নেশাগ্রস্ত জামাইকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শেখ মতিবুল (৪০)। তাঁর বাড়ি কোলাঘাট থানার নারায়ণ পাকুড়িয়া এলাকায়। বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ি রাধিকাপুরে থাকতেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে স্ত্রী বুফিয়া বিবি, তিন সন্তান, শ্বশুর ও শাশুড়ির সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন মতিবুল। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কোনও স্থায়ী কাজ করতেন না মতিবুল। ধীরে ধীরে বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব কার্যত এসে পড়ে বুবিয়ার উপরে। তিনি স্থানীয় একটি বোতল তৈরির কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি পরিচারিকার কাজও করতেন। বুবিয়ার বাবা–মা দিন মজুরের কাজ করেন। তা দিয়েই কোনও রকমে সংসার চলত। অভিযোগ, নেশার টাকার জন্য প্রায়ই স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ির উপরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন মতিবুল। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর নামে থাকা জমিও চাপ দিয়ে নিজের নামে লিখিয়ে নেন তিনি। বহুবার আত্মীয়-প্রতিবেশীরা বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শনিবার সকাল থেকেই টাকার দাবিতে বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের উপরে চড়াও হন মতিবুল। অভিযোগ, সেই ঘটনার জেরেই রবিবার সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করেন শ্বশুর শেখ জুলফিকার।