প্রাথমিকে নিয়োগের মাঝপথে স্কুলের উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের বদলি, ছাত্র–শিক্ষক অনুপাতে সামঞ্জস্য আনতেই নির্দেশ?
এই সময়: রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলোয় ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগের ইন্টারভিউ পাঁচ দফা হওয়ার পরে থমকে রয়েছে সাড়ে তিন মাস। এরই মধ্যে চার বছর পরে, ১ জুলাই উৎসশ্রী পোর্টাল চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। আবার, শুক্রবার রাতে প্রাথমিক স্তরে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে সামঞ্জস্য আনতে ‘সারপ্লাস’ শিক্ষকদের বদলির নির্দেশ দিল স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেট। ফলে, রাজ্যের ৪৯ হাজারেরও বেশি স্কুলে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক–শিক্ষিকাদের বড় অংশ এখন ধন্দে।
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী, প্রাথমিকে ৩০ জন পড়ুয়া পিছু এক জন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। গ্রামাঞ্চলে এমন বহু প্রাথমিক স্কুল রয়েছে, যেখানে এই অনুপাত মানাই হয় না। ফলে, পড়াশোনায় শিক্ষক–শিক্ষিকাদের অভাব নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই ভাবে বহু স্কুলে এমন অবস্থা যে, এক জনও পড়ুয়া নেই, অথচ রয়েছেন একাধিক শিক্ষক–শিক্ষিকা। এ বার সেই সমস্যা কাটানোর কাজ স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেট শুরু করল। এই ‘সারপ্লাস’ বদলির ফলে সমস্যা মিটবে বলেই আশা স্কুলশিক্ষা দপ্তরের।
পড়ুয়া–শিক্ষকদের অনুপাতে যাতে ভারসাম্য আসে, তর জন্য জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের (ডিপিএসসি) চেয়ারপার্সনদের বদলির নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা কমিশনার, যিনি স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেটের প্রধান। এখন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিদর্শকরাই (ডিআই) ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বে। তাঁদের কাজের পরিধি জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তার জন্য এই বদলি হবে জেলার মধ্যেই। অর্থাৎ, স্কুল বদল হলেও শিক্ষক বা শিক্ষিকা বর্তমানে যে জেলায় কাজ করছেন, তাঁরা বদলি হবেন সেই জেলার মধ্যেই।
নিয়োগের মাঝপথেই বদলির একাধিক নির্দেশিকা বেরোনোর ফলে সমস্যা যে হতে পারে, সে কথা মেনে নিয়েও বিজেপির শিক্ষক সেলের সহ-আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুইয়ের দাবি, ‘উৎসশ্রী পোর্টালে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলির আবেদন করা যায়। কিন্তু সারপ্লাস শিক্ষক–শিক্ষিকাদের বদলি হবে একই সার্কেলে। তবে একই সঙ্গে দু’টি বদলি হলে ওভারল্যাপ হতেই পারে। সেটা অ্যাডজাস্ট করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ যদিও অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (এবিআরএমএস) বিদ্যালয় শিক্ষার সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিকের বক্তব্য, ‘যে সব স্কুলে এক জনও পড়ুয়া নেই, সে সব স্কুলের সারপ্লাস টিচারদের বদলির নির্দেশিকা শুক্রবার বেরিয়েছে। ডিপিএসসি–গুলোয় চেয়ারম্যান নেই। তাই আমরা চাই, তুলনায় ধীরে হোক এই প্রক্রিয়া। আর উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে সাধারণ বদলি স্বচ্ছতার সঙ্গে হোক। তাতে অন্য জেলায় কর্মরতরা বাড়ির কাছে বদলির সুযোগ পাবেন।’
প্রাথমিকের টেট পাশ ও দু’বছরের প্রশিক্ষিত, ২০২৫ সালের চাকরিপ্রার্থী পার্থজিৎ বণিক বলছেন, ‘পাঁচ দফা হওয়ার পরে আমাদের ইন্টারভিউ ভোটের কারণে স্থগিত হলো, সেই থেকে স্থগিতই রয়েছে সাড়ে তিন মাস। অথচ দফায় দফায় বদলির নির্দেশ বেরোচ্ছে। এতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’ শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ–র সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মতে, ‘উৎসশ্রী পোর্টালে দূরবর্তী স্থানে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিজেজের জেলায় অথবা বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে বদলি নিশ্চিত হওার পরেই সারপ্লাস বদলি করা হোক সুনির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে। তা না–হলে উৎসশ্রী পোর্টালের কোন মূল্য নেই।’ স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলছেন, ‘দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করব।’