'ঐরাবত' ভাঙল দাঁতাল! অল্পে রক্ষা বনকর্মীদের - 24 Ghanta Bangla News
Home

'ঐরাবত' ভাঙল দাঁতাল! অল্পে রক্ষা বনকর্মীদের

Spread the love

এই সময়, ঝাড়গ্রাম: হাতির দলকে মনিটরিংয়ের জন্য রোজকার মতো শুক্রবারও ঐরাবত গাড়িতে মোতায়েন ছিলেন বন দপ্তরের কর্মীরা। হঠাৎ দলে থাকা একটি দাঁতাল ছুটে এসে ঐরাবতের উপরে আক্রমণ চালায়। কোনও রকমে ঐরাবতের চালক–সহ গাড়িতে থাকা বন দপ্তরের কর্মীরা গাড়ি থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। দাঁতাল হাতিটি ঐরাবতকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে থাকা ক্যানালের মধ্যে ফেলে দেয়। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের লোধাশুলি রেঞ্জের বালিভাষা বিটের বড়াশুলির জঙ্গলে। শনিবার বন দপ্তরের কর্মীরা ক্রেনের সাহায্যে ঐরাবতকে ক্যানাল থেকে উদ্ধার করে।

শুক্রবার রাতে ওই রেঞ্জের বন কর্মীদের কাছে খবর যায় খড়্গপুর বন বিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জ থেকে প্রায় ৪০-৪২টি হাতির একটি দল বড়াশুলির জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় ঢুকেছে। এলাকায় আগে থেকে ১২টি হাতির একটি দল থাকায় হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেয় বন দপ্তর। দু’টি পিকআপ ভ্যানে হুলা পার্টির সদস্য এবং একটি ঐরাবতে বন দপ্তরের কর্মী–সহ প্রায় ৩৫ জন ওই এলাকায় পৌঁছন। হুলা পার্টির সদস্যরা হাতি নিয়ন্ত্রণের কাজে লেগে পড়ে। ক্যানাল পাড়ে ঐরাবত নিয়ে হাতির গতিবিধি উপরে নজরদারির জন্য চালক–সহ বন দপ্তরের কর্মীরা বসেছিলেন। ঐরাবতের চালক গৌতম রানা বলেন, ‘ক্যানাল পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটি দাঁতাল হাতি আমাদের দিকে তেড়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুঁড় দিয়ে গাড়িটিকে মারতে শুরু করে এবং জোরে জোরে ধাক্কা দেয় হাতিটি। ক্যানালের দিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে একটি গাছে গাড়িটি আটকে যায়। আমরা প্রায় ১৩ জন পালিয়ে প্রাণে বাঁচি। কিছুক্ষণ পরেই ক্যানালে গাড়িটিকে ফেলে দেয় হাতি।’

ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন বনকর্তা তথা হাতি বিশেষজ্ঞ সমীর মজুমদার বলেন, ‘হাতি খুবই বুদ্ধিমান প্রাণী। তাদের স্মরণশক্তিও প্রবল। হাতিকে ড্রাইভ করার জন্য ঐরাবত ব্যবহার করা হয়। ঐরাবতকে শত্রু হিসেবে মনে করে হাতি আক্রমণ চালিয়েছে।’ খড়্গপুর এবং ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের সংযোগবর্তী এলাকায় বড়াশুলি, গোলবাঁধি, শঙ্করবনি, বারডাঙা–সহ একাধিক গ্রাম রয়েছে। সারা বছরই এই এলাকায় হাতির আনাগোনা। বড়াশুলি গ্রামের বাসিন্দা মহিম মাহাতো বলেন, ‘হাতির কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে হচ্ছে। স্কুল কলেজে ছেলেমেয়েরা হাতির ভয়ে যেতে পারছে না। নতুন সরকারের কাছে একটাই আবেদন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক।’

এই ঘটনায় ঐরাবতের সামনের অংশের কাচ ভেঙেছে। শনিবার হাতির দলটি ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বড়াশুলি সংলগ্ন জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বলে। এই ঘটনা নিয়ে বন দপ্তর কোনও মন্তব্য করেনি। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ডিএফও উমর ইমামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *