শনিবার বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী, উদ্বোধন হবে ফাঁড়িরও
এই সময়, বারুইপুর: ১১ বছরের নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারের ঘটনায় শুক্রবার বারুইপুর থানা ঘুরে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে গেল সিআইডি–র ফরেন্সিক দল। এক মহিলা–সহ ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে হাঁটু সমান জলে নেমে নমুনা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যেই আজ, শনিবার সূর্যপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ঘণ্টা খানেকের সফরে নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনের পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি।
গত মঙ্গলবার বারুইপুরের পুলিশ সুপারের দপ্তরে প্রশাসনিক বৈঠকে নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।দেখা করেছিলেন গণপিটুনিতে মৃত্যু হওয়া অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও। নিহত ছাত্রীর পরিবারের আর্জি মেনেই আজ সূর্যপুরে পুলিশ ক্যাম্পের বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনরাত এক করে ফাঁড়ি তৈরির কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
সূর্যপুর হাটের কাছেই একটি অনুষ্ঠানবাড়ির দু’টি তলে তৈরি হচ্ছে নতুন ফাঁড়ি। এ দিন সেই ফাঁড়ির কাজকর্মের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আসেন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্কর প্রসাদ বারুই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বারুইপুরের পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দ। তাঁরা এ দিন কথা বলেন নিহত নাবালিকা ও ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে। আইজি কঙ্কর প্রসাদ বারুই বলেন, ‘সূর্যপুর ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশকর্মী রাখা হবে। মহিলা পুলিশও থাকবে। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে এই পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে দিয়ে।’
গত রবিবার ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই বাড়ির ভাঙা অ্যাসবেস্টসের চাল খুলে সেখানে টিনের শেড বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীও বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইন্দ্রজিতের বৃদ্ধ বাবা–মায়ের নিরাপত্তা জনিত কোনও সমস্যা যাতে তৈরি না হয় সেই জন্য বাড়ির সামনেই বারুইপুর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে সিসিটিভি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সূর্যপুরের একটি পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও রবিবার উত্তেজিত জনতা সেই পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করার পাশাপাশি এক পুলিশকর্মীকেও বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে হত্যা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট–সহ একাধিক একাধিক মামলা রুজু হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গণপিটুনির দায়ে। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের দায়ে ও আরও দু’জনকে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশকর্মীকে মারধরের অভিযোগে। শুক্রবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।