উইকএন্ড ট্রিপের জন্য আদর্শ উত্তরপ্রদেশের এই ৪ হিডেন জেম
পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা হলেই প্রথমেই মনে আসে শিমলা, মানালি, নৈনিতাল বা মুসৌরির নাম। আর রাজ্যে হলেই উত্তরবঙ্গ। তবে অনেকেই জানেন না, উত্তরপ্রদেশেও এমন কয়েকটি জায়গা রয়েছে যেখানে পাহাড়, ঝরনা, সবুজ বন আর শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে হিল স্টেশনের দারুণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আবার এই সব জায়গায় ভ্রমণের খরচ খুব কম। রইল তেমন কিছু জায়গায় খোঁজ।
সোনভদ্র
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলা তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশেষ পরিচিত। বিন্ধ্য ও কৈমুর পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত এই অঞ্চল ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি দৃশ্য এবং মনোমুগ্ধকর ঝরনার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই অঞ্চলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একে ‘ভারতের সুইৎজারল্যান্ড’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। এখানে গেলে ঘুরে দেখতে পারেন মুক্কা জলপ্রপাত, রিহন্দ বাঁধ, কৈমুর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, সালখন ফসিল পার্ক এবং প্রাচীন মন্দির। প্রকৃতি, ট্রেকিং এবং অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।
চিত্রকূট
প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে চাইলে চিত্রকূট হতে পারে সেরা পছন্দ। বিন্ধ্য পর্বতমালায় অবস্থিত এই স্থানের সঙ্গে রামের বনবাসের কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। এখানে রামঘাট, কামদগিরি, হনুমান ধারা, গুপ্ত গোদাবরী, স্ফটিক শিলা এবং ভরত মিলাপের মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মনোরম সূর্যোদয়ের দৃশ্য এই জায়গাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মহোবা
উত্তরপ্রদেশের মহোবা শুধু বীরদের ভূমি হিসেবেই নয়, তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও পরিচিত। গোখর পাহাড়, চরখারির ছোট ছোট টিলা, শান্ত হ্রদ এবং সবুজ প্রকৃতি এই এলাকার প্রধান আকর্ষণ। ইতিহাস ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে মহোবা এক হিডেন জেম। এখানে বহু প্রাচীন মন্দির এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনও দেখা যায়, যা ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করে।
মির্জাপুর
ওয়েব সিরিজের কারণে মির্জাপুর দেশজুড়ে পরিচিত হলেও বাস্তবে এই শহরের আসল পরিচয় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই শহর পাহাড়, ঝরনা এবং ধর্মীয় স্থানের জন্য বিখ্যাত। ঘুরে দেখতে পারেন বিন্ধ্যম জলপ্রপাত, লখনিয়া দারি, টান্ডা জলপ্রপাত, ঐতিহাসিক চুনার দুর্গ, সীতা কুণ্ড এবং একাধিক প্রাচীন মন্দির। বর্ষাকালে মির্জাপুরের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।