Arpita Mukherjee: 'আমার সঙ্গে নাম জুড়েছে পার্থর, জীবনের সিনারিওটাই ৩৬০ ডিগ্রি বদলে গেল...', স্ট্রাগলের মধ্যেই কীভাবে নতুন অধ্যায় শুরু, জানালেন অর্পিতা | Arpita Mukherjee Breaks Silence on Partha Chatterjee, Says ‘He Got Nothing’ - 24 Ghanta Bangla News
Home

Arpita Mukherjee: ‘আমার সঙ্গে নাম জুড়েছে পার্থর, জীবনের সিনারিওটাই ৩৬০ ডিগ্রি বদলে গেল…’, স্ট্রাগলের মধ্যেই কীভাবে নতুন অধ্যায় শুরু, জানালেন অর্পিতা | Arpita Mukherjee Breaks Silence on Partha Chatterjee, Says ‘He Got Nothing’

Spread the love

কলকাতা: ২ বছর ৪ মাস, জীবনের কালো দিকটা দেখেছিলেন তিনি। আর বাংলা দেখেছিল, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার পাহাড়। বোধহয় বঙ্গবাসী প্রথম একসঙ্গে এত টাকা দেখেছিলেন সে সময়ে। কিন্তু সেই অর্পিতা আজ নিঃস্ব। তাঁকে ভরসা করতে হয় মায়ের পেনশনের ওপরেই। চার বছর পর সপ্তাহ তিনেক আগে নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। আর তাতেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার TV9 বাংলার সামনে মুখ খুললেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। কীভাবে দল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেটাও বললেন। অর্পিতা বলেন, কিচ্ছু দেওয়া হয়নি ওকে।”

তৎকালীন তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়েও মুখ খোলেন অর্পিতা। তাঁর বক্তব্য, আরজি করের ঘটনাই আসলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীই বদলে দিয়েছে। তার সঙ্গে এতগুলো দুর্নীতির অভিযোগ। কিন্তু অর্পিতার বক্তব্য, সব দুর্নীতি থেকে বেশি বড় করে দেখানো হয়েছে শিক্ষা দুর্নীতিকেই। তাঁর কথায়, “দুর্নীতির ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। ২০২২এর পর রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছে। শিক্ষার দুর্নীতি নিয়ে বড় কিছু ঘটনা হয়। গরু-কয়লা-বালি সবেতেই দুর্নীতি। কিন্তু শিক্ষা সব কিছুকে ঢেকে দিয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছাড়া পাওয়ার পর তাঁকে বিধায়কের সিটটা দেওয়া হল। অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছে, তাঁকে কিছু দেওয়াও হয়নি। এগুলো থেকে মনে হয় দল নিজের ইমেজ রাখতে সমসাময়িক মানুষকে ঝেড়ে ফেলা হয়েছে।”

কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে তাঁর জীবনকে আমূল বদলে ফেলেছে, সেটাই বলছিলেন অর্পিতা। তিনি বলেন, “এই ঘটনা ঘটার পর মানুষের আমার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীই বদলে গিয়েছে। মানুষ আমাকে অন্য চোখে দেখে। আমাকে কিন্তু প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে।” এভাবে তাঁর বাড়ি থেকে এত টাকা-সেক্স টয় উদ্ধার! তাহলে কি সত্যিই জড়িয়ে পড়েছিলেন কোনও ফাঁসে? ব্যবহৃত হয়েছিলেন? তাহলে কি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর কোনও অভিমান?

অর্পিতা বললেন, “আমার জীবনের সিনারিও বদলে গিয়েছে। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। আমারও বন্ধ-বান্ধব ছিল, আমারও জীবনযাত্রা ছিল সাধারণ। কিন্তু এই শিক্ষাদুর্নীতি আমার জীবন ঘুরিয়ে দিয়েছে। তার ওপর আমার সঙ্গে জুড়ে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম।” আর সেই দিনগুলোই তাঁর জীবনের সবচেয়ে কালো দিন বলে মনে করেন অর্পিতা। কিন্তু তারপরও পার্থর ওপর কোনও অভিমান নেই অর্পিতার। কারণ তাঁর কথায়, “উনি তো নিজেই সাড়ে তিন বছর জেলে ছিলেন, তাঁর ওপর আর কী অভিমান করব। পার্থ চট্টোপাধ্যায় সব থেকে বেশি জেলে থেকেছেন।”

অর্পিতা জানালেন, মানুষ এখন তাঁকে অন্য চোখে দেখে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই আজও চালাচ্ছেন তিনি। তবে দলের কেউই তাঁর খোঁজ নেন না। ভরসা বলতে কেবল মায়ের পেনশন। অর্পিতা বললেন, “জেল থেকে বেরনোর পর আমার মা চলে যায়। আমাকে মায়ের পেনশনের জন্য কেউ আমাকে যে সাহায্য করবে, সেরকমও কাউকে পাইনি। সংঘর্ষ চলছে। এরকম কষ্টের মধ্যে কারোর যেন না যায়, সেটাই বলব। আমি আজও স্ট্রাগল করছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *