আওয়ামি লিগের রেলমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় বেকসুর খালাস BNP-র মন্ত্রী-নেতারা
কুদ্দুস আফ্রাদ
বাংলাদেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও আওয়ামি লিগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টার মামলায় একজনকে প্রাণদণ্ডের সাজা ও বাকি আসামিদের অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে যাঁরা খালাস পেয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমান ক্ষমতাসীন BNP-র প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী। এঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (এখন সাংসদ) এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ-সহ ৯ জন।
বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন জেল হাজতে, ৩ জন জামিনে এবং একজন পলাতক রয়েছেন। রায় শোনানোর সময়ে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জিকে গউছ আদালতে হাজির ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আজিজ নাঈম।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে জঙ্গি বিরোধী রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আওয়ামি লিগ নেতা ও টানা সাত বারের নির্বাচিত সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। জনসভা চলার সময়ে গ্রেনেড ও বোমা হামলায় ঘটনাস্থলে যুবলিগের এক নেতা নিহত হন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত-সহ অন্তত ২৯ জন গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী BNP নেতা ও বর্তমান সরকারের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ-সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। দীর্ঘ ২২ বছর এ মামলাটি স্থগিত থাকার পরে গত এপ্রিলে আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেন এবং একই মাসে মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।
এ দিনের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া তিন BNP নেতা। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এই মামলায় আসামি করেছিল। আজ রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়েছিল। আজকে রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’
প্রসঙ্গত, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭০ সালের পাকিস্তান নির্বাচনে সিলেট জেলা থেকে ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ৫ নম্বর সেক্টরের সাব কম্যান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ (উপ-নির্বাচনে), ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন তিনি।