আপনি মেসেজ করলে রিপ্লাই দেয় সঙ্গী, কিন্তু আগে কখনও কথা বলে না, কেন এমন হয় জানেন?
আপনি মেসেজ করলে, রিপ্লাই আসে কিছুক্ষণের মধ্যেই। কখনও বা কয়েক সেকেন্ডেই। দুজনেই একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু ক্রাশ কখনও আগে মেসেজ করেনি। এমনকি সম্পর্কে আসার পরেও এই ছবিটার পরিবর্তন হয়নি। সে প্রতিটি মেসেজের উত্তর দেয়, কথা বলতেও আগ্রহ দেখায়, কিন্তু কখনও নিজে থেকে আগে মেসেজ করে না। কেন?
এমন হলে উল্টোদিকের মানুষটার মনে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কেউ কেউ ভাবেন হয়তো আগ্রহের অভাবের কারণে এমনটা হয়। এই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই সম্পর্কে বাড়তে থাকে দূরত্ব। কিন্তু কেন এমন হয়? সত্যিই কি তা হলে উল্টোদিকের মানুষটা আপনার প্রতি আগ্রহী নন? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি সব সময় এতটা সরল নয়। এর নেপথ্যে অনেকগুলি কারণ কাজ করতে পারে।
অনুভূতি প্রকাশের ধরনে পার্থক্য
সব মানুষ একই ভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেন না। কেউ সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হলেও স্বভাবগত ভাবে কম উদ্যোগী হতে পারেন। বিশেষ করে অন্তর্মুখী (introvert) ব্যক্তিরা অনেক সময় কথা বলতে ভালোবাসলেও নিজেরা আলাপ শুরু করতে অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁরা অপেক্ষা করেন অন্য কেউ যোগাযোগ শুরু করবে, তারপর স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কথা বলেন।
মনোবিজ্ঞানে একে কখনও কখনও ‘passive communication style’ বলা হয়। এই ধরনের মানুষরা সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় ভোগেন। এর পিছনে আত্মবিশ্বাসের অভাব, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা কাজ করতে পারে।
সামাজিক ভয়
আরও একটি কারণ হতে পারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব। অনেকের মধ্যে এখনও এই ধারণা কাজ করে যে, আগে থেকে যোগাযোগ শুরু করা মানে নিজেকে বেশি আগ্রহী বা দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করা। ফলে তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অপেক্ষা করেন, যদিও অন্যজনের সঙ্গে কথা বলতে তাঁদের বেশ ভালোই লাগে।
রিলেশনশিপ এক্সপার্টদের মতে, সব সময় আগে মেসেজ না করা মানেই যে সে আপনাকে পছন্দ করে না, এমন ধারণা ভুল। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যোগাযোগ করলে সে কতটা আন্তরিক ভাবে সাড়া দেয়। যদি সে দ্রুত উত্তর দেয়, কথোপকথন চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখায়, প্রশ্ন করে এবং আলোচনা দীর্ঘায়িত করে, তাহলে তা ইতিবাচক লক্ষণ হতে পারে।