লাইট ডিজ়াইনারের ‘সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি’ পুরস্কার এ বার বাংলায়
ধীরে-ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে। কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। অন্য নাটকের দল থেকেও কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। মাঝের সময়ে পরিশ্রম করে, মাটি কামড়ে পড়ে থেকে ঘাম-রক্ত ঝরিয়ে দীনেশ পোদ্দার হয়ে উঠেছেন ‘ব্র্যান্ড’। ৩৫ বছরের কর্মজীবনে ৫৫টি থিয়েটার প্রোডাকশনে লাইট ডিজ়াইন করেছেন। ‘ব্যোমকেশ’, ‘হে সিন্ধুসারস’ ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘কাঁকড়া’, ‘কিতারেবা’ ‘মুম্বই নাইটস’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকের আলোর বিন্যাস তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত। নাটকের পাশাপাশি ৩০০-র বেশি নাচের শো-এর আলোকবিন্যাসের নেপথ্যে রয়েছেন তিনি। বিরজু মহারাজ, কেলুচরণ মহাপাত্র, অমলা শংকর, মমতা শংকর, তনুশ্রী শংকর, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ একাধিক খ্যাতনামী নৃত্যশিল্পীরা তাঁর আলোর শৈলীতে মঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া শহরের প্রায় ৭০-৮০টি পুজো প্যান্ডেল তাঁর নকশা করা আলোয় সেজে উঠেছিল। বিদেশের রঙ্গমঞ্চকেও আলোকিত করেছেন। পর্দাতেও ফিকশন এবং নন-ফিকশন শোয়ের আলো করেছেন। এই আলোর সফরে অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবেন না দীনেশ। তিনি বিশ্বাস করেন, এক জীবনে অনেক কিছু পেয়েছেন। এর চেয়ে বেশি জীবন থেকে আর কিছু চাওয়ার এবং পাওয়ার নেই। তবে এই আলোর বিশ্বে নতুন কোনও ধ্রুবতারার উদয় হয়নি এখনও, তা নিয়ে চিন্তা এবং খারাপলাগা আছে। পরবর্তী প্রজন্ম কি লাইট ডিজ়াইনিং নিয়ে উত্সাহী নয়? দীনেশ বলেন, ‘সকলেই হিরো হতে চায়। এই ফিল্ডে তো আসলে গ্ল্যামার নেই। কে আর অন্ধকারে বসে আলোর কাজ করতে চায়। জানি না আমরা চলে গেলে কী হবে…।’