ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ঘাঁটি যেন ফুটবলের ফাইভ-স্টার শহর, কী আছে কলম্বিয়া পার্কে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ঘাঁটি যেন ফুটবলের ফাইভ-স্টার শহর, কী আছে কলম্বিয়া পার্কে?

Spread the love

আটটি মাঠ, ওয়েলনেস ল্যাব, হাইড্রোথেরাপি পুল থেকে অত্যাধুনিক জিম। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বেসক্যাম্প কলম্বিয়া পার্ক এখন ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্র।

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বের (FIFA World Cup) অন্যতম সফল দল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দল যখন কোনও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, তখন তাদের প্রস্তুতি এবং অনুশীলনের পরিবেশও থাকে সর্বোচ্চ মানের। চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বেসক্যাম্প হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিস টাউনশিপে অবস্থিত কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফেসিলিটি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ভরপুর এই কেন্দ্রটি তৈরি করেছে Red Bull, মূলত তাদের ফুটবল ক্লাব New York Red Bulls-এর জন্য।

প্রায় ৮০ একর বিস্তৃত এই বিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে মোট আটটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠ। এর মধ্যে পাঁচটি প্রাকৃতিক ঘাসের এবং তিনটি কৃত্রিম টার্ফের। নিউ জার্সিতে শীতকালে তুষারপাতের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি মাঠে বিশেষ হিটিং সিস্টেম বসানো হয়েছে, যাতে বরফ জমে গেলে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলা যায় এবং অনুশীলন ব্যাহত না হয়। ফলে বছরের প্রায় সব সময়ই মাঠগুলো খেলার উপযোগী অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়।

বিশ্বকাপের আগে স্থানীয় আয়োজকরা বিভিন্ন অনুশীলন কেন্দ্রের বিকল্প দিয়েছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলিকে। কিন্তু ব্রাজিলের কোচ Carlo Ancelotti কলম্বিয়া পার্ক পরিদর্শনের পরই এটিকে বেসক্যাম্প হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উন্নত মানের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়াই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।

এই ফেসিলিটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ড্রেসিংরুম। হোম এবং অ্যাওয়ে দলের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থাও করা হয়েছে। শুধু ম্যাচ বা অনুশীলনের প্রস্তুতিই নয়, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং চোট থেকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্যও এখানে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সাধারণ জিমের পাশাপাশি আছে বিশেষায়িত রিহ্যাবিলিটেশন জিম, যেখানে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের কাজ করা হয়।

ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের ওয়েলনেস ল্যাব। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, শারীরিক অবস্থা এবং পারফরম্যান্স নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রয়েছে একাধিক সুইমিং পুল, যেখানে হাইড্রোথেরাপি এবং রিকভারি সেশন পরিচালিত হয়। দীর্ঘ অনুশীলনের পর শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এই সুবিধাগুলি অত্যন্ত কার্যকর।

শুধু মাঠ এবং ফিটনেস সুবিধাই নয়, কৌশলগত প্রস্তুতির জন্যও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। একটি ছোট অডিও-ভিজ্যুয়াল থিয়েটার রয়েছে, যেখানে ম্যাচ বিশ্লেষণ, ভিডিও সেশন এবং ট্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়া যায়। পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক কনফারেন্স রুম, যেখানে দলীয় বৈঠক, কোচিং সেশন কিংবা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব।

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলাররা—যেমন Vinícius Júnior এবং Raphinha—এই কেন্দ্রেই অনুশীলন করে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানা যায়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আরও কয়েকটি দেশও এই ফেসিলিটিকে বেসক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে ব্রাজিল দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সুবিধাটি নিজেদের জন্য নিশ্চিত করে।

ফুটবলের জনপ্রিয়তা এবং প্রতিযোগিতার মানের বিচারে ইউরোপের বড় লিগগুলির সঙ্গে এখনও পুরোপুরি তুলনীয় নয় মেজর লিগ সকার। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা যে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে, তার অন্যতম উদাহরণ কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফেসিলিটি। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের সর্বাঙ্গীণ যত্নের মাধ্যমে এই কেন্দ্র বিশ্বমানের ফুটবল পরিবেশ তৈরি করেছে। আর সেই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল ব্রাজিল নিজেদের প্রস্তুতির জন্য এই ঠিকানাকেই বেছে নিয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *