জামাইষষ্ঠী পালনের আগে জেনে নিন এই জরুরি নিয়ম
ষষ্ঠী পুজোর উপকরণ
আম পাতা, তালপাতার পাখা, ধান, দূর্বা, পাঁচ থেকে নয় রকমের ফল, ফুল এবং বেলপাতা, সাদা সুতো ও হলুদ।
জামাইষষ্ঠী পালনের নিয়ম
শাস্ত্র মতে এই পুজোয় কাঁঠালপাতার ওপর ৫, ৭ বা ৯ রকমের ফল কেটে সাজিয়ে রাখা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে আম, লিচু, কাঁঠালের রমরমা। তাই এই মরশুমি ফলগুলিও থাকে পাতে। সঙ্গে থাকে ১০৮ আঁটি দূর্বা। এই দিনে ষষ্ঠী পুজোর জন্য শ্বাশুড়িরা ভোরবেলা স্নান সেরে ঘটে জল ভরে নেন। তারপর ঘটের ওপর আম পাতা রাখেন। সঙ্গে থাকে তালপাতার পাখা। একটি সুতো হলুদে চুবিয়ে তাতে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে গিট বেঁধে ডোর তৈরি করা হয়। একে ষষ্ঠীর ডোর বলা হয়ে থাকে।
এবার মা ষষ্ঠীর পুজোর পালা। কাটা ফলের ডালি, সঙ্গে ফুল, দূর্বা, ষষ্ঠীর ডোর দিয়ে মা ষষ্ঠীর থানে পুজো দিয়ে আসেন শাশুড়ি মায়েরা। জামাই এলে তাঁর কপালে দইয়ের ফোঁটা দেওয়া হয়। সেই দূর্বার আঁটি ঘটের জলে ভিজিয়ে জল ছিটিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে নতুন তালপাতা দিয়ে বাতাস করতে হয় জামাইকে। জামাইয়ের সঙ্গে মেয়ে ও নাতি-নাতনিকেও ষষ্ঠীর বাতাস দেওয়া হয়। প্রবল গরমে জামাইষষ্ঠী পালন করা হয়। তাই জল ছিটিয়ে ও হাওয়া দিতে জামাইকে ঠান্ডা করে তারপর তাঁকে খেতে দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত আছে।
এরপর জামাইয়ের কবজিতে ষষ্ঠীর ডোর বেঁধে দেন শ্বাশুড়িরা। সঙ্গে তিন বার বলেন ষাট-ষাট-ষাট। এরপর ধান ও দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেন। জামাইকে আশীর্বাদ করে নতুন জামাকাপড় উপহার দেন। তার পর মিষ্টি ও ফল খেতে দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে বিস্তর খানাপিনার আয়োজন। জামাইরাও এ দিন মোটেও খালি হাতে শ্বশুরবাড়ি যান না। শাশুড়ি মায়ের জন্য নতুন শাড়ি, সঙ্গে ফল, মিষ্টি নিয়ে জামাই ষষ্ঠীর ভোজ খেতে যান তাঁরা। সব মিলিয়ে জামাই ষষ্ঠীকে একটি পারিবারিক মিলনোৎসব বলা যেতে পারে।