পাতকুয়োয় মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হস্তিশাবকের - 24 Ghanta Bangla News
Home

পাতকুয়োয় মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হস্তিশাবকের

Spread the love

এই সময়, নয়াগ্রাম: কাঁঠাল খেতে এসেছিল হাতির দল। সেই দলে ছিল হস্তিশাবকও। কিন্তু কোনও ভাবে হস্তিশাবকটি একটি ৩০ ফুট গভীর পাতকুয়োয় পড়ে যায়। তাকে তোলার জন্য হাতির দল পাতকুয়োয় মাটি ফেলতে শুরু করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মাটি চাপা পড়ে শ্বাস আটকে পাঁচ বছরের হাতিটি মারা যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটে নয়াগ্রামের বাছুরখোয়াড় গ্রামে। এরপরেই মা হাতিটি আর্তনাদ শুরু করে। যার জেরে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীর। ঘটনাস্থলে তাঁরা চলে আসেন। সকাল হতেই আসেন বন দপ্তরের কর্মীরাও। অন্য হাতিগুলি জঙ্গলে ফিরে গেলেও মা হাতিটি শাবককে তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। মা হাতিটি সেখান থেকে কিছুতেই সরছিল না। ফলে বন দপ্তরের কর্মীরাও হস্তিশাবককে তুলতে পারছিলেন না। শেষে পটকা ফাটিয়ে মা হাতিকে সেখান থেকে সরানো হয়। উদ্ধার করা হয় মৃত হস্তিশাবককে।

বন দপ্তরের কর্মীরা মাটি কাটার যন্ত্রের সাহায্যে মাটি কেটে হস্তিশাবকটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। বন দপ্তরের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন বাছুরখোয়াড় গ্রামের বাসিন্দারাও। তাঁরাও ঝুড়ি, কোদাল নিয়ে কুয়ো থেকে মাটি তোলেন। কুয়ো থেকে উদ্ধারের সময়ে বন দপ্তর হস্তি শাবকটির গলায় বেল্ট বেঁধে ঝুলিয়ে উপরে উঠিয়ে নিয়ে আসে। সেই ভিডিয়ো (এর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই পশুপ্রেমীরা বন দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। খড়্গপুর বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘শাবকটির মাথা উপর দিকে থাকায় শাবকটিকে কুয়ো থেকে তোলার জন্য বাধ্য হয়ে গলায় বেল্ট বাঁধতে হয়। পরে অন্য জায়গায় বেল্ট বেঁধে গাড়ি করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, মা হাতিটি উগ্র অবস্থায় ওই এলাকায় এখন ঘোরাফেরা করছে। সাধারণ মানুষজনকে সচেতন করার জন্য মাইকে প্রচার চালাচ্ছে বন দপ্তর।

বন দপ্তরের কর্মীরা জানান, গর্তে পড়ে যাওয়া হাতিকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসে দলের অন্য হাতিরা। গর্তের আশেপাশের মাটি পা দিয়ে ঠেলে গর্ত বুজিয়ে আটকে পড়া হাতিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হাতির দলের স্বভাব। এ দিনও মাটির পাতকুয়োয় পড়ে যাওয়া হস্তিশাবককে উদ্ধারের জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল হাতির দল। তবে তারা বুঝতে পারেনি শাবকটি শ্বাস আটকে মারা যাবে। কুয়োতে আটকে পড়া হস্তিশাবকটি হাতিগুলির ফেলা মাটিতেই চাপা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় বলে দাবি বন দপ্তরের।

এ দিন ভোরে খড়্গপুর বন বিভাগের কেশবরেখা রেঞ্জের দিক থেকে ৩০ থেকে ৩২টি হাতির একটি দল চাঁদাবিলা রেঞ্জের বাছুরখোয়াড় গ্রামের সংলগ্ন একটি ইটভাটায় ঢুকে পড়ে। ইটভাটার পাশেই রয়েছে কয়েকটি কাঁঠাল গাছ। কাঁঠাল খেতে গিয়ে এই বিপত্তি ঘটে। ভোরের আলো ফুটতেই হাতির দলটি সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের হাঁড়িভাঙার জঙ্গলে চলে যায়। মা হাতি সন্তানকে ছেড়ে যায়নি। পাতকুয়োর কাছেই ঘুরপাক খাচ্ছিল মা হাতিটি। বারে বারে মা হাতিটি শুঁড় দিয়ে শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ঝাড়গ্রামের শহরের বাসিন্দা প্রাক্তন বনকর্তা হস্তি বিশেষজ্ঞ সমীর মজুমদার বলেন, ‘কুয়োয় মাটি ফেলে হাতিগুলি শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বুঝতে পারেনি মাটি চাপা পড়ে সে মারা যাবে। তখনকার মতো মা হাতিটিকে সরানো গেলেও পরে সে আবার ওই জায়গায় ফিরে আসবে তার সন্তানের খোঁজে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *