'অভিষেক আমার ছেলের মতো, ভুল করলে ক্ষমা করাই বাবার কর্তব্য’, সুর নরম কল্যাণের! - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘অভিষেক আমার ছেলের মতো, ভুল করলে ক্ষমা করাই বাবার কর্তব্য’, সুর নরম কল্যাণের!

Spread the love

কলকাতা: মাত্র কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছিলেন। এমনকি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অভিষেক না আমি’, এই দু’য়ের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার …

কলকাতা: মাত্র কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছিলেন। এমনকি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অভিষেক না আমি’, এই দু’য়ের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার চরম বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আগ্রাসী অবস্থান থেকে আচমকাই সরে এলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে এবার অনেকটাই নমনীয় সুরে কথা বললেন প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা।

শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলের করা সব ভুল ক্ষমা করে দেওয়াই বাবার দায়িত্ব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য দলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিষেকের নেতৃত্ব এবং আচরণের কারণেই দলের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলনেত্রী যদি অভিষেকের পাশেই দাঁড়ান, তাহলে তাঁকে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তবে শনিবারের মন্তব্যে সেই সংঘাতের আবহ একধাক্কায় অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ ও বিদ্রোহীদের কটাক্ষ

এদিনের সাক্ষাৎকারে রাজ্যের ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর দাবি, “দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে। পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি, যেখানে বিরোধী দলগুলো কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

পাশাপাশি দলের একাংশের সাংসদ লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে যে জল্পনা চলছে, সে বিষয়েও মুখ খোলেন তিনি। বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, “ওরা যা খুশি করুক। শেষ পর্যন্ত বিজেপির আশ্রয়েই থাকতে হবে। যারা নিজেদের এলাকাতেই যেতে পারেন না, তারা আবার উন্নয়নের কথা বলছেন কীভাবে?” এদিন তিনি স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে সংযুক্তিকরণ বা একীভূত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি ও রাজনৈতিক সমীকরণ

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে সিআইডি ও পুলিশের তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।

সব মিলিয়ে, তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন, বিদ্রোহী সাংসদদের সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সুর নরম করা নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন দলের অন্দরে কোনও নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *