বিদেশি লগ্নিকারীদের জন্য বড় সুবিধা, সরকারি বন্ডে কর ছাড়ের নেপথ্যে কী হিসাব?
ভারতের সরকারি বন্ডে বিদেশি লগ্নিকারীদের জন্য কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। প্রথম দেখায় এই সিদ্ধান্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বলে মনে হলেও, এর পিছনে রয়েছে দেশের অর্থনীতি ও রুপিকে শক্তিশালী করার বড় হিসাব।
সম্প্রতি কেন্দ্র বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের (FII/FPI) জন্য সরকারি বন্ডে সুদের আয় এবং মূলধনী লাভের উপর কর ছাড় ঘোষণা করেছে। এখন সেই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
মূল কারণ হলো বিদেশি পুঁজি টানা। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি তহবিলের ধারাবাহিক বিক্রির কারণে রুপির উপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে উদীয়মান বাজারগুলির মধ্যে দুর্বল মুদ্রাগুলির তালিকায় চলে গিয়েছিল ভারতীয় রুপি।
বিদেশি লগ্নিকারীরা যখন ভারতীয় সরকারি বন্ড কেনেন, তখন তাঁদের ডলার ভারতে আনতে হয়। সেই ডলার রুপিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ে এবং রুপির উপর চাপ কমে।
কর ছাড়ে কী লাভ হবে?
আগে বিদেশি লগ্নিকারীদের সরকারি বন্ড থেকে পাওয়া সুদের উপর কর দিতে হতো। পাশাপাশি বন্ড বিক্রি করে লাভ করলে মূলধনী লাভ করও দিতে হত। কর তুলে দেওয়ায় ভারতীয় সরকারি বন্ড এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
সরকারের আশা, এর ফলে পেনশন ফান্ড, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এবং বড় আন্তর্জাতিক ফান্ডগুলি ভারতীয় ঋণ বাজারে আরও বেশি অর্থ লগ্নি করবে।
নীতিগত ঘোষণা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বিদেশি লগ্নিকারীরা Fully Accessible Route (FAR)-এর আওতায় প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকার সরকারি বন্ড কিনেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের লক্ষ্য শুধু রুপিকে সমর্থন দেওয়া নয়। বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বন্ড সূচকে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করাও এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে সরকারের ধার নেওয়ার খরচ কমতে পারে এবং দেশের ঋণ বাজার আরও গভীর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিদেশিদের জন্য কর ছাড় দেওয়া কোনও বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়। রুপিকে সমর্থন দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানো এবং ভারতীয় বন্ড বাজারকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পথে হাঁটছে কেন্দ্র।