বিএসএফ-এর গোপন তালিকা নবান্নে! পাচারকারীদের দমনে রাজ্যকে কড়া পদক্ষেপের আর্জি

কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি চোরাচালান ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের কোমর ভেঙে দিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF)। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলিতে সক্রিয় একগুচ্ছ চিহ্নিত পাচারকারী ও চোরাকারবারীদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে এই সীমান্ত অপরাধীদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং ‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু করার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। (BSF Border Smuggling Crackdown)
– Advertisement –
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এই নির্দিষ্ট পাচারকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত মাথাদের নাম, তাদের কাজের পরিধি এবং কোন কোন রুট দিয়ে মূলত সোনা, মাদক, গরু কিংবা জাল নোটের মতো মারাত্মক চোরাচালান চালানো হয়, তার বিস্তারিত খতিয়ান রয়েছে এই তালিকায়। বিএসএফ-এর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কাজ কেন্দ্রীয় বাহিনী করলেও, স্থানীয় স্তরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এই অপরাধীদের গ্রেফতার করার মূল এক্তিয়ার রাজ্য পুলিশের। তাই পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে রাজ্য ও কেন্দ্রের এই যৌথ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
সীমান্ত সুরক্ষায় কেন এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, বিএসএফ-এর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত অর্থবহ। অতীতে বহুবার সীমান্ত পাচার নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চাপানউতোর দেখা গিয়েছে। এবার সরাসরি সুনির্দিষ্ট তালিকা নবান্নের হাতে তুলে দিয়ে বিএসএফ কার্যত বল ঠেলে দিল রাজ্য প্রশাসনের কোর্টে। এই তালিকায় থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ কতটা দ্রুত এবং কড়া ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্র্যাকডাউন সফল হলে শুধু যে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কমবে তাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেকটাই মজবুত হবে।