Suvendu AdhiKari: ‘শুভেন্দু অধিকারীর জিরো টলারেন্স সত্যিই ভালো লাগছে…’, নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে কী আবেদন সোহমের? | TMC Leader and Actor Soham Chakraborty on Chief Minister Suvendu Adhikari
প্রযোজকের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন টলিউড অভিনেতা তথা তৃণমূল নেতা সোহম চক্রবর্তী। এই অভিযোগেই প্রযোজকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন তিনি। পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সোহম জানিয়েছেন, আইনি পথেও হাঁটবেন তিনি। আর এই বিষয়ে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিশেষ অনুরোধও করেছেন তৃণমূলের সোহম।
ঠিক কী বলেছেন অভিনেতা?
Tv9Bangla-কে সোহম জানান, আমাকেও তো আমার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তার দিকটা দেখতে হবে। যেখানে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার অনুরোধ থাকবে মাননীয় গৃহমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, সত্যিই এটা ভালো লাগছে যেভাবে হুলিগালিজমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স করছে। যাঁরা দলের নাম করে, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এরকম আচরণ করছে, অশালীন ব্যবহার করছে, সেই ব্যাপারে যেন কড়া হস্তক্ষেপ করেন। এক্ষেত্রে আমার নিরাপত্তার বিষয়টা নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি। সেটা নিয়েও যদি তিনি একটু ভাবনা চিন্তা করেন। তাহলে আমি বাধিত হব।
সোহমের সঙ্গে কী ঘটেছে?
২০১৮ সালে একটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল সোহমের। পরিচালক ছিলেন মহুয়া চক্রবর্তী। প্রযোজক তরুণ দাস। এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য নিয়মমাফিক ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিমও দেওয়া হয়েছিল সোহমকে। তবে সোহমের দাবি পরে হঠাৎই পরিচালক মহুয়া তাঁকে জানান, প্রযোজকের ব্যবহারে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তাই পরিচালক ছবি থেকে সরে যাচ্ছেন। সোহম ছবিটি করার জন্য প্রথম থেকেই প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু এই প্রযোজক আগে কখনই সরাসরি সোহমকে ফোন করেননি, দেখাও করেননি। বরাবরই তাঁর টিমের মাধ্যমে কথা হয়েছিল। এরপর ছবিটি হয়নি দীর্ঘ ৮ বছর। কয়েকদিন আগে প্রযোজকের তরফ থেকে ফোন করা হয় সোহমকে অগ্রিম ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য। কিন্তু সোহম প্রযোজককে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী, অগ্রিম টাকা এক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য নয়। কেননা, প্রযোজকই ছবিটি তৈরি করছেন না। অন্যদিকে, প্রযোজকের তরফ থেকে অভিযোগ ছিল, সোহমের কাছে বারং বার ডেট চেয়েও, না পাওয়ার কারণেই নাকি ছবিটা তৈরি হতে পারেনি। প্রযোজকের এই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে সোহম জানিয়েছেন, সেই সময় তিনি এতটাও ব্যস্ত ছিলেন না যে ডেট দিতে পারতেন না। লক্ষ্যণীয় এর মধ্যেই বাংলার সরকার বদলেছে, তারপরই যোগাযোগ করেন প্রযোজক।
তবে সোহম-প্রযোজক তরুণ দাসের এই বাকবিতণ্ডা এখানেই থামে না। সোহমের অভিযোগ, প্রযোজক তাঁর অফিসে আসেন এবং টাকা ফেরত চান। সোহমও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অগ্রিম টাকা এক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য নয়। এরপরই মঙ্গলবার রাতে সোহমকে ফোন করে প্রযোজক তরুণ দাস অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রযোজক বলেন, তির-ধনুক চলবে, খেলা হবে। সোহমের অভিযোগ, প্রযোজক রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের কথা বলে, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। সঙ্গে যোগ করেছেন জয় শ্রীরাম স্লোগান! এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছেন সোহম।