পঞ্জাবে ইডি অভিযানে গ্রেফতার আপ সরকারের শিল্পমন্ত্রী
চণ্ডীগড়: পঞ্জাবের আপ সরকারের শিল্পমন্ত্রী সঞ্জীব অরোড়াকে বড় অর্থ পাচার মামলায় গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Sanjeev Arora)। প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাউন্ড-ট্রিপিংয়ের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো …
চণ্ডীগড়: পঞ্জাবের আপ সরকারের শিল্পমন্ত্রী সঞ্জীব অরোড়াকে বড় অর্থ পাচার মামলায় গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Sanjeev Arora)। প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাউন্ড-ট্রিপিংয়ের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। একাধিক দফায় ইডি রেড চালানোর পর বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পঞ্জাব মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত সঞ্জীব অরোড়ার গ্রেফতার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র অনুসারে, অভিযোগ উঠেছে যে সঞ্জীব অরোড়া ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ ঘুরিয়ে (রাউন্ড-ট্রিপিং) অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঙ্কিং চ্যানেল ব্যবহার করে কালো টাকাকে সাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ইডি মনে করছে। একাধিক রেডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস ও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। ইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং এর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির যোগসূত্র পাওয়া যেতে পারে।
আরও দেখুনঃ তৃণমূল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড মুখপাত্র ঋজু দত্ত
সঞ্জীব অরোড়া পঞ্জাব মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শিল্প দফতরের দায়িত্বে থাকায় তিনি রাজ্যের শিল্পনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পঞ্জাবের রাজনৈতিক মহল উত্তাল হয়ে উঠেছে। আপ (আম আদমি পার্টি) সরকারের মন্ত্রিসভায় এই ধরনের অভিযোগ উঠে আসায় দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিরোধী দল কংগ্রেস ও বিজেপি ইতিমধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। কংগ্রেস নেতা বলেন, “আপ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। অথচ তাদেরই একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ১০০ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন। এটা পুরো সরকারের নৈতিক পরাজয়।” অন্যদিকে আপ নেতারা বলছেন, তদন্ত চলাকালীন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না এবং আইন নিজের পথে চলবে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চণ্ডীগড়ের এক ব্যবসায়ী বলেন, “মন্ত্রীদের কাছে এত বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। শিল্পের উন্নয়নের নামে যদি টাকা লোপাট হয়, তাহলে রাজ্যের যুবকদের চাকরি কোথায় পাবে?” ইডির এই অভিযানকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলা শুধু একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাজ্যের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগের স্বচ্ছতা জড়িত। সঞ্জীব অরোড়ার গ্রেফতারের পর পঞ্জাব মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।