ভোট চুরি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারেন মমতা? কি মত আইনজ্ঞদের?
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির বড় জয়, বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (international court)পরাজয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে ব্যাপক অনিয়ম, এজেন্টদের মারধর, …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির বড় জয়, বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (international court)পরাজয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে ব্যাপক অনিয়ম, এজেন্টদের মারধর, সিসিটিভি বন্ধ রাখা এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে এখন প্রশ্ন উঠছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যেতে পারবেন?
আইনজ্ঞরা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতে নির্বাচনী বিবাদ সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের আওতায় দেশীয় আদালতেই মোকাবিলা করতে হয়।ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর তৃণমূল নেতারা দাবি করেন, ভোট গণনার দিন তাঁদের এজেন্টদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, কাউন্টিং এজেন্টদের উপর হামলা হয়েছে এবং বহিরাগত বিজেপি কর্মীরা সক্রিয় ছিলেন।
আরও দেখুনঃ জামাত সমর্থন-সিমির সাথে যোগ! চন্দ্রনাথ খুনে টিকছে না তৃণমূলের প্রহসন
মমতা নিজে কাউন্টিং সেন্টারে গিয়ে অভিযোগ করেন এবং একটি ভিডিও দেখিয়ে বহিরাগতদের উপস্থিতির প্রমাণ তুলে ধরেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার কথা বলছেন।কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
কোনো অনিয়ম হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ, তারপর হাইকোর্ট এবং সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার বিধান রয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত, যেমন আইসিসি বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত, সাধারণত দেশীয় নির্বাচনী বিবাদে হস্তক্ষেপ করে না। এগুলো মূলত যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিরোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রখ্যাত আইনজীবীরা বলছেন “ভারতে নির্বাচনী মামলা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এমনকি যদি কেউ যানও, তাতে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।” তিনি আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে এমন অভিযোগ উঠলেও কখনো আন্তর্জাতিক আদালতে সফল হয়নি। বরং এতে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৃণমূল হেরে গিয়ে অজুহাত খুঁজছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সবকিছু হয়েছে এবং ফলাফল জনগণের রায়।
শুভেন্দু অধিকারী নিজে বলেছেন, “এটা মানুষের জয়। অভিযোগ তুলে লাভ নেই।” অন্যদিকে তৃণমূল নেতারা আশা করছেন, দেশীয় আদালতে চ্যালেঞ্জ করে ফল বদল করা সম্ভব কি না তা খতিয়ে দেখবেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়ী দল স্বাভাবিকভাবে ফল মেনে নেয়, আর পরাজিত দল অনিয়মের কথা বলে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালতের কথা উঠলে তা রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ব বলে মনে করা হয়। এতে জনমতও বিভক্ত হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা না থাকলে গণতন্ত্র কীভাবে চলবে?