তাঁর হাত ধরেই গোটা বিশ্ব পেয়েছিল ২৪ ঘণ্টার নিউজ় চ্যানেল, চলে গেলেন ‘ক্যাপ্টেন আউটরেজাস’
২৪ ঘণ্টা ধরে নিরবচ্ছিন্ন খবর সম্প্রচার হবে টেলিভিশনে। আর সেটাই সারাদিন ধরে মানুষ গিলবে। একটা সময়ে এ কথা কেউ ভাবতেই পারতেন না। তিনি ভেবেছিলেন। ১৯৮০ সালের ১ জুন রিস শনফেল্ডের সঙ্গে CNN চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন টেড টার্নার। আটলান্টার এক সাধারণ টেলিভিশন স্টেশনকে পরিণত করেছিলেন বিশ্বের প্রথম স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ‘সুপারস্টেশন’-এ। বিপ্লব এসেছিল খবরের জগতে। বুধবার চলে গেলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
এ দিন ‘টার্নার এন্টারপ্রাইজ়’-এর এক বিবৃতির উদ্ধৃত করে এই খবর দিয়েছে CNN। ওহায়ো-তে জন্মেছিলেণ টার্নার। বিয়ে করেছিলেন তিনবার। তার মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০১, ১০ বছর তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন প্রখ্যাত হলিউডি অভিনেত্রী জেন ফন্ডার সঙ্গে। শোনা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের সময়ে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি জেনের নামে লিখে দিতে হয়েছিল টেড টার্নারকে।
টেলিভিশনের দুনিয়ায় তিনি ‘দ্য মাউথ অফ দ্য সাউথ’ এবং ‘ক্যাপ্টেন আউটরেজাস’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তবে শুধু খবর নয়, সিনেমা, কার্টুন এবং ‘আটলান্টা ব্রেভস’-এর মতো পেশাদার ক্রীড়া দলের সমন্বয়ে এক বিশাল মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
পরিবেশ সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ কার্টুন সিরিজ় তৈরি করেছিলেন তিনি। যে কার্টুন সিরিজ় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল।
সমাজসেবার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় তিনি ১ বিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন।
তবে আগামী প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখবে আধুনিক টেলিভিশন ব্যবসায় যুগান্তকারী বদল আনার জন্য। CNN প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কাজ করতে হয়েছিল, যাতে অন্যান্য সম্প্রচারকারী নেটওয়ার্কগুলি প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই না পায়। এই কাজটা তাদেরই করার কথা ছিল, কিন্তু তাদের সেই কল্পনাশক্তিটাই ছিল না।’