ক্রীড়া নীতি ও খেলো ইন্ডিয়াতেই বাংলায় ‘খেলা শুরু’ বিজেপি–র
পার্থ দত্ত
নতুন বিজেপি সরকার এলে বাংলার খেলায় কী কী বদল আসবে?
বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, গেরুয়া সরকার দুটো ব্যাপারে জোর দেবে। প্রথমটা, দেশের সব রাজ্যের মতোই বাংলাতে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়ানীতি চালু করবে। দ্বিতীয়ত, এই রাজ্যে খেলো ইন্ডিয়া প্রজেক্ট এনে খেলাধুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে নতুন প্রতিভা খোঁজা।
এটা বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ক্রীড়ামন্ত্রীর। কে হবেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী? বিজেপি শিবিরের খবর, লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে নিশীথ প্রমাণিক। আলোচনায় ভরত ছেত্রী ও অশোক দিন্দাও। কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা থেকে ৫৭ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন নিশীথ। ৪১ বছরের নিশীথের ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার প্লাস পয়েন্ট তিনি ২০২১ সাল থেকে তিন বছর ধরে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মোদী সরকারের ক্রীড়ানীতির সঙ্গে তিনি দারুণভাবে পরিচিত।
গত বছর অগস্টে লোকসভা ও রাজ্যসভায় গৃহীত হয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট। যা সারা দেশের অলিম্পিক্সভূক্ত স্পোর্টস ফেডারেশন ও তাদের অধীনে থাকা রাজ্য সংস্থাগুলোকে চালু করতেই হবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। বিভিন্ন রাজ্যের সংস্থাগুলো স্পেশাল জেনারেল মিটিং করে তাদের পরিচালন কমিটি সংশোধন করতে শুরু করে দিলেও বাংলায় তা হয়নি।
নয়া ক্রীড়া আইনে পরিচালন কমিটি ১৫ জনের। পদে থাকবেন প্রেসিডেন্ট, দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট (যার মধ্যে একজন মহিলা), একজন সচিব ও একজন কোষাধ্যক্ষ। কমিটি সদস্যদের মধ্যে চার জন নামী প্রাক্তন খেলোয়াড় রাখা বাধ্যতামূলক। বাংলার ক্রীড়া সংস্থাগুলো এমনকি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে পরিচালন কমিটিতে এ নিয়ম মানা হয়নি। তাই ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্থাগুলোকে তাদের গঠনতন্ত্র বদলে ভোট করতে হবে। ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না সত্তরোর্ধ্ব অথবা ১৫ বছর প্রেসিডেন্ট, সচিব পদে কাজ করা কেউই।
ফলে ব্যাপক রদবদল হবে বাংলার ক্রীড়া প্রশাসনে। বিজেপির আমলে খেলার উন্নয়নে প্রতি বছর স্পোর্টস বাজেট বেড়েছে লাফিয়ে। বাজেটের সিংহভাগ খরচ নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টে। চলতি আর্থিক বছরে দেশের ক্রীড়া বাজেট ৪ হাজার ৪৮০ কোটি। যার মধ্যে ‘খেলো’র জন্য খরচ ৯২৫ কোটি টাকা। গত কয়েক বছর ধরে খেলো–র ইউথ গেমস, ইউনিভার্সিটি গেমস, প্যারা গেমস, উইন্টার গেমস, বিচ গেমস ছাড়াও ট্রাইবাল গেমস আয়োজন করে বিহার, অসম, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়রা তাদের ক্রীড়া পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নয়ন করেছে।
তৃণমূল সরকার এই গেমসকে বাংলাতে ঢুকতে দেওয়া তো দূর অস্ত, এই গেমসে টিম পাঠানোও সমর্থন করেনি। অথচ এই গেমসে সাফল্য পাওয়া ক্রীড়াবিদরা বছরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা অনুদানের সঙ্গে চাকরির কোটাও পাচ্ছেন। যা থেকে বঞ্চিতই ছিলেন বাংলার ছেলেমেয়েরা। বিজেপির নয়া জমানায় খেলো ইন্ডিয়ার ম্যাপে ঢুকে পড়বে বাংলাও।