কারা পাচ্ছেন আশা ভোঁসলের ২৫০ কোটি টাকার উত্তরাধিকারী? – Bengali News | Here is the details News about Asha Bhosle’s luxurious assets
আশা ভোঁসলের প্রয়াণের মধ্য়ে দিয়ে ভারতীয় সঙ্গীতের একটি স্বর্ণালি যুগের অবসান হয়েছে। তবে শোকের আবহেও গায়িকার রেখে যাওয়া বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিলিবন্দোবস্ত নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আশার প্রায় ২৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ছিলেন। যার মধ্যে রয়েছে তাঁর গানের রয়্য়ালটি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর রেস্তরাঁও।
তা কে কে পাচ্ছেন আশার এই বিশাল সম্পত্তি?
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশা ভোঁসলের সমস্ত ব্যবসায়িক কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন তাঁর ছেলে আনন্দ। মুম্বই ও পুনেতে গায়িকার বেশ কিছু বিলাসবহুল আবাসন রয়েছে। এছাড়াও তাঁর আয়ের একটি বড় উৎস ছিল বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে থাকা তাঁর বিখ্যাত রেস্তোরাঁ চেইন। এই সমস্ত কিছুরই উত্তরাধিকারী হতে চলেছেন আনন্দ। প্রসঙ্গত, সমাজমাধ্যমে ঘোরাফেরা করা তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র তাঁর রিয়েল এস্টেট বা আবাসন সম্পত্তির বাজারমূল্যই প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।
আশা ভোঁসলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। কয়েক দশক ধরে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর গাওয়া হাজার হাজার কালজয়ী গানই ছিল এই সম্পদের মূল ভিত্তি। গজল, ধ্রুপদী সঙ্গীত থেকে শুরু করে ক্যাবারে বা পপ— সব ঘরানাতেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুরুর দিকে প্লে-ব্যাক গায়িকারা রয়্যালটি পেতেন না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সুরকার ও পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর কাজ এবং গানের রয়্যালটি তাঁর আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করেছিল।
আশা ভোঁসলে কেবল সুরের জাদুকরী ছিলেন না, বরং একজন সফল উদ্যোক্তাও ছিলেন। ২০০২ সালে দুবাইতে তিনি তাঁর আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ চেইন ‘আশা’স’ (Asha’s) শুরু করেন। বর্তমানে এই ব্র্যান্ডটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, বাহরাইন এবং ব্রিটেনের বার্মিংহাম ও ম্যাঞ্চেস্টারের মতো শহরে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে। সঙ্গীত জগতের বাইরেও তাঁর এই ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই দেখলেও আশা ভোঁসলে নিজের পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল সাম্রাজ্য। তাঁর প্রয়াণে সেই সম্পত্তির দায়িত্ব এখন তাঁর সুযোগ্য পুত্র ও নাতনির কাঁধে। তবে ভক্তদের কাছে তাঁর সবথেকে বড় সম্পত্তি হয়ে থাকবে তাঁর গাওয়া সেই অজস্র মায়াবী গান, যা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।