Paschim Medinipur: পুলিশের পায়ে পড়লেন, ‘প্রাচীরের’ মতো দাঁড়ালেন অনেকে, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ভাঙা গেল না বাড়ি – Bengali News | Administration could not demolish houses due to resistance of families after court order in Paschim Medinipur
কান্নায় ভেঙে পড়েন বাড়ির বাসিন্দারাImage Credit: TV9 Bangla
চন্দ্রকোনা: আদালত নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ পেয়ে বাড়ি ভাঙতে এসেছিলেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। বাড়ির বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়লেন তাঁরা। কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির বাসিন্দারা পুলিশের পায়ে পড়ে গেলেন। বাড়ির সামনে ‘প্রাচীরের’ মতো দাঁড়ালেন। প্রশাসনের আধিকারিকরা একাধিকবার সবাইকে সরে যেতে অনুরোধ করলেন। তারপরও সরলেন না কেউ। শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বাড়ি না ভেঙেই ফিরতে হল পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়।
চন্দ্রকোনা পৌরসভা তিন নম্বর ওয়ার্ডের অযোধ্যা এলাকার বাসিন্দা শ্রীকান্ত রানা, মধুসূদন রানা ও রাধারমন রানাদের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি পরিবার দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ। নিজেদের জায়গা দখলে আনতে আদালতের দ্বারস্থ হয় রানা পরিবার। দুটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ঘাটাল আদালতের সিভিল জজ সিনিয়র ডিভিশন। বাড়ি দুটি ভাঙতে গতকাল প্রশাসন ও পুলিশের লোকজন যান। চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ, চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের বিডিও উৎপল পাইক, আদালতের কর্মীরা বাড়ি দুটি ভাঙার জন্য পৌঁছন।
প্রশাসনের আধিকারিকরা বাড়ির লোকজনকে এক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ছেড়ের দেওয়ার বার্তা দেন। কিন্তু, বাড়ি দুটিতে বসবাসকারী সুকুমার দাস ও নিয়তি দাসের পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। তাঁদের দাবি, বাম আমলে ওই জায়গা খাস ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। তারপর তাঁরা ওখানে ৪০ বছর ধরে বাস করছেন। তাঁদের নিজস্ব কোনও জমি, জায়গা নেই। বাড়ি ভেঙে দিলে তাঁরা যাবেন কোথায়, সেই প্রশ্ন করেন। তাঁরা আরও জানান, আদালতের নির্দেশের কথা তাঁরা হঠাৎ করে জানতে পেরেছেন। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তাঁরা আবেদন করেছেন। ফলে এখন বাড়ি ভাঙা যাবে না।
পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের পায়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে আইনজীবী ও প্রশাসনের আধিকারিকরা বাড়ি না ভেঙে ফিরে যান। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কিছু না বললেও বাদীপক্ষের আইনজীবী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ দত্ত জানিয়েছেন, “আদালতের নির্দেশকে অমান্য করেছে ২ পরিবার। তাই আমরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হব ন্যায়বিচারের জন্য।”এখন দেখার আদালত এবার কী নির্দেশ দেয়।