Dipendu Biswas : ‘অভিমানে বিজেপিতে গিয়েছিলাম’, ভোটের আগেই তৃণমূলে ঘরওয়াপসি দীপেন্দু বিশ্বাসের – Bengali News | Dipendu Biswas joins TMC
তৃণমূলের পতাকা হাতে দীপেন্দু বিশ্বাসImage Credit: Tv9 Bangla
বসিরহাট : খেলার জগতের সঙ্গে রাজনীতির জগত যখন মিশে যায় ‘দলবদলু’ শব্দটা কি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ? ভোটের আগে দলবদল করে তৃণমূলে ফিরলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। তিনি বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক। তারও আগে তাঁর পরিচয় ফুটবলার হিসেবে। জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার। একাধিক ক্লাবের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। কখনও তাঁর রং ছিল সবুজ-মেরুন কখনও লাল-হলুদ। ৯০-এর দশকে ইস্টবেঙ্গলে খেলেছেন। তারপর ২০০৫-২০০৭ মোহনবাগানের হয়ে খেলেন। আবার ইস্টবেঙ্গলে কামব্যাক। একবছর লাল-হলুদের জার্সিতে খেলেন। তারপর মহামেডানে ৪ বছর কাটিয়ে মোহনবাগানে খরওয়াপসি হয় তাঁর। রাজনীতিতে পা দিয়েও ‘দলবদলু’-র তকমাটা ঘোচাতে পারলেন না। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্ষোভপ্রকাশ করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন হল তাঁর ।
জানা গিয়েছে,বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে দীর্ঘদিন। বছর দেড়েকের বেশি সময় ধরে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে দীপেন্দু বিশ্বাসকে। রবিবার বসিরহাট জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে জেলা নেতৃত্বের হাত ধরে ফের দলে যোগ দেন দীপেন্দু । তৃণমূলে যোগ দিয়েই দীপেন্দুর দাবি,অভিমানে দলত্যাগ করেছিলেন। বিজেপিতে তিনি কোনওদিনই ছিলেন না। তিনি বলেন, “বিজেপি তো আমিই করিইনি। একটা অভিমানে চলে গিয়েছিলাম। বিজেপিতে শুধু একদিনের জন্যই যোগদান করেছিলাম। ওই একদিনই সম্পর্ক ছিল বিজেপির সঙ্গে। আমাকে কি বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে কেউ দেখেছে?”
২০২১ সালে তৃণমূল টিকিট দেয়নি বলে অভিমানে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। এবারের নির্বাচনে কি তাহলে টিকিট পাচ্ছেন দীপেন্দু বিশ্বাস। সেই কারণেই কি তৃণমূলে ফিরলেন ? এই বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “এই মুহূর্তে দলটা করব। টিকিট নিয়ে কোনও কথা হয়নি। ওই বিষয়ে কেনই বা কথা হবে। দল যে কাজটা বলবে করব। দলের জন্য কাজ করব।” রবিবার, দীপেন্দু ছা়ড়াও বসিরহাট ১নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি আব্দুল কাদের সরদার সহ বহু কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তৃণমূলে যোগদান করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। কিন্তু, শমীক ভট্টাচার্যের বিপরীতে লড়াই করে সামান্য ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। পরে ২০১৬ সালে ওই একই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করেন। বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়কও হয়েছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। তবে, ২০২১ সালে দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। সেই অভিমানেই দলত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০২১ সালে দীপেন্দুর মতো অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এসে তাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার তৃণমূলে ফিরছেন। কিছুদিন আগেই পার্ণো মিত্র তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে লড়াই করেছিলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন,ভোটের আগেই দলবদলের কেন হিড়িক পড়ে? সবটাই কি ব্যক্তিস্বার্থ নাকি ক্ষমতার লোভ? বিরোধীরা বলছেন, বারবার দল পরিবর্তন রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।