‘তবে কেন লোক হাসালি…’, প্রতীক তৃণমূলে যোগ দিতেই ঊষসীর পোস্ট – Bengali News | Ushasie chakraborty on pratik ur rahaman after tmc join
সব জল্পনার হল অবসান। অবশেষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত ধরে আমতলার পার্টি অফিসে তৃণমূলে যোগ দিলেন সদ্য প্রাক্তন সিপিএম নেতা প্রতীক-উর-রহমান। বিগত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকী সিপিএম ছাড়ার পর প্রতীক-উর এও বলেছিলেন, বাংলায় যত রাজনৈতিক দল আছে সবাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি যে তৃণমূলেই যাবেন তা মুখে না বললেও রাজনীতির অলিগলিতে শাসকদলের যোগদানের জল্পনাই ছড়াচ্ছিল। লোকসভা নির্বাচনে যে অভিষেকের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছিলেন, সেই অভিষেকের হাত ধরেই অবশেষে লাল পতাকা ছেড়ে ঘাসফুল পতাকা তুলে নিলেন তিনি। আর এই ঘটনার পরই টুক করেই ফেসবুকে অভিনেত্রী, বামসমর্থক ও শ্যামল চক্রবর্তীকন্যা ঊষসীর ছোট্ট পোস্ট। নাহ, স্পষ্ট তিনি কারও নাম নেননি। এমনকী, স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই পোস্ট একেবারেই অরাজনৈতিক। তবুও নেটিজেনরা মনে করছেন, ঊষসীর এই পোস্ট একেবারে প্রতীক-উর রহমানকে খোঁচা দিয়েই।
ঊষসীর রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছিল নিজের বাড়ি থেকেই। শ্যামল চক্রবর্তীর কন্যা হিসেবে বামপন্থী ঘরানাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তবে তাঁর পরিচয় কেবল নেতার মেয়ে হিসেবে নয়। জেএনইউ (JNU)-এর প্রাক্তনী এবং সমাজতত্ত্বে পিএইচডি (PhD) করা ঊষসী তাত্ত্বিক দিক থেকেও বামপন্থার গভীর অনুরাগী। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও ঊষসী প্রতীককে ইঙ্গিত করে পোস্ট দিয়েছিলেন। ঊষসী ফেসবুকে লিখে ছিলেন, ”অনেক দিন আগে নেপাল দা ( নেপাল দেব ভট্টাচার্য) পার্টি থেকে এক্সপেল্ড হয়ে নাকি বলেছিলেন “ বাবা ছেলে কে ত্যাজ্য করলে ই বা ছেলে কি বাবা কে ত্যাজ্য করে? জাস্ট মনে পড়ে গেল । শুনেছি স্বয়ং মাও সেতুং বহুবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে এক্সপেল্ড হয়ে গেছিলেন । আর প্রতিবারই এক্সপেল্ড অবস্থায় পার্টির মিছিলের শেষে ওনাকে হাঁটতে দেখা গেছিল । আর বাবা কর্ণকুন্তী সংবাদ পড়াতে পড়াতে শিখিয়েছিলেন – “জয়লোভে জয়লোভে রাজ্যলোভে অয়ি । বীরের সদগতি থেকে ভ্রষ্ট নাহি হই।” রবীন্দ্রনাথের এই বিখ্যাত উক্তি না ভুলে যেতে! আমদের মত কিছূ বোকা লোকের কাছে জয় পরাজয় এর থেকে মেরুদন্ড সোজা রাখা টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখনও । আমরা যাদেরকে অ্যাসেট ভাবি আশা করব তাঁদের কাছেও ।