CPIM: সেলিম-শতরূপদের জন্য? ‘খাপ খাওয়াতে পারছি না’ বলে CPM-এর বড় নেতার পদত্য়াগ – Bengali News | CPM Leader Pratik Ur Rahaman resign from all position of CPM
প্রতীক-উর রহমানের বড় সিদ্ধান্তImage Credit: Tv9 Bangla
কলকাতা: সিপিএমের (CPM) রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ প্রতীক-উর-রহমানের। পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রাক্তন SFI রাজ্য সভাপতি। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এমন সিদ্ধান্ত। আর প্রতীক-উর সিপিএম-এর রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও। কিন্তু ভোটের মুখে কেন এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন উঠতেই প্রতীক-উর বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কারও বিরোধ নেই।
কেন এমন সিদ্ধান্ত প্রতীক-উরের?
সম্প্রতি, নাম না করে সিপিএম মুখপাত্র শতরূপ ঘোষের বক্তব্যের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল প্রতীক-উরের। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক নিয়ে যখন দলেরই একাংশ কর্মীদের সঙ্গে সেলিমের বিরোধ দেখা দেয়, ঠিক সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে শতরূপ কিছু মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সিপিএম তো এখনও বলেনি, হুমায়ুনকে ভরসা করবে কি না। কিন্তু, সমস্ত নীতি নৈতিকতার ঠেকা কি আমরা একা নিয়ে বসে রয়েছি? বিজেপি তাকে প্রার্থী করলে দোষ নেই। তৃণমূল মন্ত্রী করলে দোষ নেই। সিপিএম তাঁর সঙ্গে কথা বললে অপরাধ হয়ে গেল।”
শতরূপের এই বক্তব্যের পরই দেখা যায় একটি পোস্ট করেন প্রতীক-উর। সেই সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘নীতি নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।‘ তবে, সেখানে শতরূপের নাম করে লেখেননি কিছুই। তবে লাল পার্টির অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, শতরূপকে কটাক্ষ করেই এই মন্তব্য ছিল তাঁর।
এরপর দেখা গেল গতকাল অর্থাৎ রবিবার (১৫.২.২০২৬) দলকে একটি চিঠি পাঠান প্রতীক-উর। সেখানে তিনি পরিষ্কার লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। সেই কারণেই যাবতীয় পদ থেকে অব্যাহতি চাইছি।’
তবে সিপিএম নেতা শতরূপ টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “আমি কলকাতার বাইরে আছি। এটা সত্যি মিথ্যা ঠিক ভুল জানি না। আমি জানি না এমনটা কেন হবে। প্রতীক-উর আমাদের পার্টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক লিডার। অনেক দায়িত্ব নিয়ে লড়েছেন। আমি আশা করব সব মিটে যাবে। তবে এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।” অপরদিকে প্রতীক-উর বলেন, “ব্যক্তিগত ভাবে আমার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। আমার যা বলার আমি ফর্মে বলেছি। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে এখনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এটা তো দলের আভ্যন্তরীণ বিষয় এটা আমি সবার সামনে বলব না। সময় এলে মিডিয়াকে জানাব।”
আর প্রতীক-উরের এই চিঠির পরই আসরে নেমেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি সিপিএমকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম।”