Nipah Virus: মাজডিহায় হাজার হাজার বাদুড়ের বাস, নিপা নিয়ে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসিন্দারা বললেন… – Bengali News | Health department cautions people on bat borne Nipah virus in Bankura
বাঁকুড়া: একসঙ্গে কত বাদুড় দেখেছেন? এই প্রশ্ন শুনে অনেকেই মনে মনে সংখ্যা গুনবেন। কিন্তু, বাঁকুড়ার মাজডিহায় গিয়ে এই প্রশ্ন করলে উত্তর মিলবে না। সংখ্যা কেউ বলতে পারবেন না। কারণ, সেখানে হাজার হাজার বাদুড়ের বাস। বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামকে বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য বললে কম বলা হয়। এই গ্রামের আনাচ কানাচে থাকা গাছে গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাশাপাশি থাকতে থাকতে এই গ্রামের মানুষ মনে করেন বাদুড়েরা তাঁদের পরিবারেরই একজন। এখন নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার পর ওই গ্রামের মানুষ কী বলছেন? তাঁরা কী ভয়ে রয়েছেন? স্বাস্থ্য দফতরই বা কী বলছে?
মাজডিহা গ্রামে বাদুড় নাকি মানুষ, কারা আগে বসবাস করতে শুরু করেছিল তা জানেন না কেউ। প্রজন্মের প্রজন্ম ধরে গ্রামবাসীরা শুধু জানেন, বাদুড়ের দল তাঁদের গ্রামেরই বাসিন্দা। তাদের রক্ষা করতে হবে। আর সে ভাবেই শতকের পর শতক ধরে চোরা শিকারিদের হাত থেকে গ্রামবাসীরা নিজেদের চেষ্টায় রক্ষা করে এসেছেন বাদুড়ের দলকে। নিজেরা বাদুড় মারা তো দূরের কথা, আশপাশের গ্রাম থেকে কেউ বাদুড়কে সামান্য বিরক্ত করতে এলেও বাধা দেন গ্রামের মানুষ। এর ফলে দিন যত গড়িয়েছে মাজডিহা গ্রামের গাছে গাছে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা বাদুড়ের সংখ্যা ততই বেড়েছে। বর্তমানে গ্রামের গাছে গাছে কয়েক হাজার বাদুড় বসবাস করে।
বাদুড়ে ভরা গাছ
সম্প্রতি নিপা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মেলার পর সংক্রমণ এড়াতে বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকার কথা বলছেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। সেকথা শুনেছেন মাজডিহা গ্রামের মানুষও। কিন্তু নিপার আতঙ্কে শত শত বছর ধরে অটুট থাকা বাদুড় মানুষের সম্পর্কে ইতি টানতে নারাজ মাজডিহা গ্রামের মানুষ। নিপা ভাইরাসের কথা শুনে স্থানীয় বাসিন্দা সোমা ঘোষ বলেন, “নিপা ভাইরাসের কথা শুনেছি। আমাদের এখানে কখনও হয়নি। বাদুড়ে খাওয়া ফলের কিছুটা ফেলে দিয়ে আমরা খেয়েছি। কখনও কিছু হয়নি।” স্থানীয় বাসিন্দা করুণা ঘোষ, প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বললেন, বাদুড়ের জন্য তাঁদের কোনওদিন ক্ষতি হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, যদি ক্ষতি হত তাহলে বাদুড়রা এখানে হয়তো থাকতেই পারত না।
স্বাস্থ্য দফতর অবশ্য বাদুড়ের মতো বন্যপ্রাণের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেই গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। বাঁকুড়া জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস বলেন, “বাঁকুড়া জেলায় এখনও পর্যন্ত নিপা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে হচ্ছে। সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ফল পাখি খেলে সেটা খাওয়া ঠিক নয়। কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া ঠিক হবে না। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”