LCA HAL Tejas: তেজস উৎপাদনে আসছে গতি, সঙ্গে উন্নতমানের রেডার! আতঙ্কে পাকিস্তান! – Bengali News | LCA HAL Tejas: Tejas production is gaining momentum, with advanced radar! Pakistan in panic!
নাসিকে তৈরি হল ইতিহাস। ১৭ তারিখ শুক্রবার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা HAL-এর নাসিক প্ল্যান্টে LCA তেজেস মার্ক ১এ-র তৃতীয় প্রোডাকশন লাইনের উদ্বোধন করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই একটি ছোত পদক্ষেপই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে বিরাট একটা পদক্ষেপ।
এই প্রোডাকশন লাইন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আসলে, এই তেজস হল মিগ ২১ বাইসনের উত্তরসূরী। গত সেপ্টেম্বরেই এই মিগ ২১ বাইসন অবসর নিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে। আর তার ফলেই, ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়্যাড্রন নেমে গিয়েছে ৩০-এর নীচে। আর হিসাব বলছে, ভারতের অন্তত ৪২টি স্কোয়াড্রন থাকতে হবে। ফলে, এই শূন্যতা ভরাট করতে প্রয়োজন তেজসকেই।
কীভাবে বাড়ছে উৎপাদন?
নতুন এই প্রোডাকশন লাইন বছরে ৮টি বিমান তৈরি করতে পারবে। আর তার ফলে, হ্যাল সব মিলিয়ে বছরে ২৪টি তেজস উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ছাড়াও এলসিএ তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমানে ৬৪ শতাংশের বেশ দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। এই যুদ্ধবিমানে রয়েছে দেশীয় উত্তম রাডার ও উন্নত মানের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম।
তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের দেশ আগে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করত। আর বর্তমানে সেই ভারতই ৬৫ শতাংশ সরঞ্জাম তৈরি করে নিজেদের দেশে। আসলে, এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দেয় আমাদের দেশ কতটা আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিতে বিপুল উত্থান
দেশের এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শুধুমাত্র দেশের সেনাবাহিনীকেই শক্তিশালী করছে এমন নয়। কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম দেশেই তৈরি হওয়ায় তা অনেক সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়াও দেশের অর্থ দেশেই থাকছে। হিসাব বলছে, ২০১৪-১৫ সালে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল মাত্র ৪৬ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। আর তা ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও বেড়েছে প্রতিরক্ষা খাতে রফতানিও। টাকার অঙ্কে তা ১ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।
সরকারের আগামীর লক্ষ্য আরও বড়। তারা চাইছে, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদন ৩ লক্ষ কোটি টাকা ও রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যেতে। সাম্প্রতিক অতীতে অপারেশন সিঁদুরের মতো মিশনে দেশীয় সংস্থা ও প্রযুক্তির উপর সেনার আস্থা প্রমাণিত হয়েছে। এই আস্থা আর দেশীয় শিল্পের যৌথ ক্ষমতা ভারতকে আগামীতে সামরিক দিক থেকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে, এমন আশা রাখাই যায়।