পুজোর মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ৭৭ রোগীর মৃত্যু, আবর্জনার স্তূপ নিয়ে ক্ষোভ - 24 Ghanta Bangla News
Home

পুজোর মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ৭৭ রোগীর মৃত্যু, আবর্জনার স্তূপ নিয়ে ক্ষোভ

Spread the love

দুর্গোৎসবের আনন্দের আবহে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখা দিল অন্য চিত্র। ষষ্ঠী থেকে দশমী পাঁচ দিনেই মারা গিয়েছেন ৭৭ জন রোগী। সংখ্যাটা দৈনন্দিন গড় হিসেবের তুলনায় কিছুটা কম হলেও, গত বছরের তুলনায় বেড়েছে মৃত্যু। ২০২৩-এ যেখানে পুজোর একই সময়ে মৃত্যু হয়েছিল ৬২ জনের, সেখানে এ বছর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৭৭-এ। তবে স্বস্তির বিষয়, এবার প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানালেন হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার দেব কুমার প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ১৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়, আর পুজোর দিনগুলিতে গড়ে ১৬ জন কম মারা গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ফের র‍্যাগিং, বিক্ষোভ, ফিরতে হল রোগীদের, ব্যাহত পরিষেবা

অন্যদিকে, এই পাঁচ দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। হাসপাতালের করিডর থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের সামনেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল উচ্ছিষ্ট খাবার, ময়লা-আবর্জনা এমনকি গোবরও। রোগীর পরিবাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের খোঁজে, আর সেই সময়েই চোখে পড়ছে নোংরা ও দুর্গন্ধে ভরা পরিবেশ। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতাল পুজোর দিনগুলিতে কার্যত পরিণত হয়েছিল আবর্জনার স্তূপে।

শুক্রবার সকালে হাইব্রিড সিসিইউ ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন এক রোগীর আত্মীয়। তিনি বলেন,তিন দিন ধরে আত্মীয় ভর্তি আছে। কিন্তু চারদিকে চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ঠিকমতো ঝাড়ু দেওয়া হয় না, লোকজন যেখানে খাচ্ছে, সেখানেই উচ্ছিষ্ট ফেলে যাচ্ছে। কোনও নজরদারি নেই। সুস্থ মানুষও এই পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এই তালিকায় যোগ হয়েছে ট্রলি না পাওয়ার অভিযোগও। এক রোগীর আত্মীয়ের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা স্বামীকে ভর্তি করালেও এক্সরে করার জন্য ট্রলি পাননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও ২৫ নম্বর কাউন্টারে কোনও কর্মীর দেখা মেলেনি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে ফেলে রাখলে তাঁর স্বামীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার নিজে উদ্যোগ নিয়ে ট্রলির ব্যবস্থা করেন। জানা যাচ্ছে, পুজোর মধ্যে হাসপাতালে দায়িত্বে ছিলেন কেবল একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ও একজন ডেপুটি সুপার। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদেরও বেশিক্ষণ অফিসে দেখা যায়নি। রোগীর পরিবার ও আত্মীয়রা তাই ক্ষোভে ফুঁসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *