পুজোর চাঁদা না দেওয়াতেই খুন, কোচবিহারে বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধারে দাবি বাবার - 24 Ghanta Bangla News
Home

পুজোর চাঁদা না দেওয়াতেই খুন, কোচবিহারে বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধারে দাবি বাবার

দিনকয়েক আগে কোচবিহারে রেললাইনের ধারে উদ্ধার হয়েছিল এক বিজেপি কর্মীর দেহ। সেই ঘটনায় এবার আরও গুরুতর অভিযোগ তুলল পরিবার। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর চাঁদা না দেওয়ায় প্রলয় বর্মনকে খুন করা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাথাভাঙার পূর্ব শিলডাঙা এলাকায়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত স্থানীয় ক্লাবের দিকে।

আরও পড়ুন: রেললাইনের ধারে উদ্ধার বিজেপি নেতার ছেলের দেহ, খুনের অভিযোগ পরিবারের

জানা যাচ্ছে, প্রলয় বর্মন শিলডাঙা এলাকার বাসিন্দা এবং সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেহ উদ্ধার হয় রেললাইনের ধারে। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুনের ঘটনা। প্রলয়ের বাবা অধীর বর্মন জানিয়েছেন, ওই রাতে প্রলয় বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় বিধানপল্লি ক্লাবের সদস্যরা তাঁকে আটকায়। কিছুক্ষণ পর ক্লাব থেকে ফোন আসে অধীরবাবুর কাছে। তিনি সেখানে পৌঁছনোর পর ছেলের বাইক ও মোবাইল পেলেও প্রলয়ের দেখা পাননি। পরে গভীর রাতে রেললাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর দেহ। অধীরবাবুর অভিযোগ, দুর্গাপুজোর আগে তাঁদের কাছ থেকে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি তা দিতে না পারায় ক্লাব সদস্যরা প্রতিশোধ নিতে তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে মেরে রেললাইনের ধারে ফেলে দিয়েছে। তাঁর দাবি, ছেলেকে খুন করে দুর্ঘটনার নাম করে গোটা ঘটনাটা চাপা দিতে চেয়েছে ওরা।

তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ দায়ের করতে এতদিন দেরি হল কেন? এ প্রসঙ্গে অধীরবাবু বলেন, প্রথমে থানায় গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি। পরে বুধবার তাঁর অভিযোগ লিখিতভাবে গ্রহণ করে মাথাভাঙা থানার পুলিশ। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর সময় তারা গার্ডরেল বসিয়ে রাস্তায় আলপনা দিচ্ছিল। সেই সময় প্রলয় নাকি দ্রুতগতিতে বাইক চালিয়ে সেখানে ধাক্কা মারে। এরপর তাঁকে কিছুক্ষণ আটকে রাখা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরই রেললাইনের ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ঘোকসাডাঙা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে।স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কর্মীর প্রাণ গেছে, অথচ পুলিশ শুরুতে অভিযোগ নিতেই চায়নি। অন্যদিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি দুর্ঘটনা। রাজনীতি করে ঘটনাটিকে ভিন্ন মোড় দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *