আধার সংক্রান্ত জটিলতা, রেশন পেতে গিয়ে সমস্যা ১০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের - 24 Ghanta Bangla News
Home

আধার সংক্রান্ত জটিলতা, রেশন পেতে গিয়ে সমস্যা ১০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক বৈধ রেশন গ্রাহক আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে খাদ্যসুবিধা পেতে সমস্যায় পড়েছেন। রাজ্য খাদ্য দফতরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লক্ষ ৪১ হাজার গ্রাহক বয়স কম হওয়ায় এখনও আধার কার্ড পাননি। এছাড়া, আধার থাকা সত্ত্বেও বায়োমেট্রিক যাচাই সম্ভব হয়নি ২২,২৮৬ জনের, ফলে মোট প্রায় ১০ লক্ষ ৭৫ হাজার গ্রাহক এখনও আধার সংক্রান্ত জটিলতায় তালিকাভুক্ত। এই সমস্যার মধ্যে ৯৬ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

আরও পড়ুন: রেশন দুর্নীতিতে জ্যোতিপ্রিয় সহ ৩ জনের জামিন খারিজে তৎপর ইডি, আদালতের দ্বারস্থ

খাদ্য দফতর জানিয়েছে, রেশন বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গ্রাহকের আধার নম্বর এবং বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রীয় সরকারও এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার পক্ষে রয়েছে। তবে একইসঙ্গে নির্দেশ এসেছে, যারা আধার কার্ড না-পেয়েছেন বা যাচাই করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা যেন রেশন সামগ্রী থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাস্তবে কিছু ব্লকে দেখা গিয়েছে, আধার না থাকার কারণে বা যাচাই ব্যর্থতার কারণে কিছু গ্রাহক রেশন পাচ্ছেন না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে।

খাদ্য দফতর সকল জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, সমস্যায় পড়া বৈধ গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে। স্থানীয় আধিকারিকরা সরেজমিনে যাচাই করে প্রতিটি গ্রাহকের প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত করছেন। দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট রেশন গ্রাহকদের ৯৮.৭৬ শতাংশের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, আর ৯৮.২৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু ব্লকে গড়ের তুলনায় কম সংখ্যক গ্রাহকের যাচাই হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঝাড়গ্রামের বিনপুর ২ নম্বর ব্লকে ৯৬.৩৩ শতাংশ গ্রাহকের যাচাই হয়েছে, এবং কোচবিহারের হলদিবাড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকেও যাচাই হার গড়ের নীচে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি খাদ্য দফতরের আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আঙুলের ছাপ না-মেলানো সমস্যার কারণে কিছু ক্ষেত্রে যাচাই আটকে যাচ্ছে। বিশেষত বয়স্ক নাগরিকদের আঙুলের ছাপ মিলছে না, আর শিশুদের জন্য আধার কার্ড এখনও তৈরি হয়নি।

দফতরের দাবি, যেসব গ্রাহকের আধার সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, তাদের নাম আলাদা করে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। রাজ্য প্রশাসন নিশ্চিত করছে, কেউ রেশন থেকে বঞ্চিত হবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *