ISRO: কতটা নিরাপদে ফিরবে ব্যোমযাত্রী? গগনযান মিশনের পথে আরও একধাপ ইসরোর – Bengali News | Isro successfully accomplishes first integrated air drop test
গত সপ্তাহে দুনিয়ার দুই প্রান্তে দু’টি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানেই মুখ খুললেন নাসার সায়েন্স মিশন বিভাগের প্রধান নিকোলা ফক্স। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নাসা চাইছিল ভারত নতুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পে যোগ দিক। কিন্তু ভারত সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফক্স বলেন, একা একা মহাকাশ স্টেশন বানানোর সাহস যাঁরা দেখান, তাঁদের বাহবা দিতেই হয়। তবে নাসার এই প্রশংসার আড়ালে কি ব্যাঙ্গাত্মক সুর স্পষ্ট নয়? অনেক মহাকাশ বিজ্ঞানীই মনে করছেন, ভারত হয়তো এককভাবে এত বড় পদক্ষেপ নিতে পারবে না। কিন্তু বাস্তব অন্যকথা বলছে। রবিবার সেই সন্দেহই উড়িয়ে দিল ইসরো। ইতিহাস গড়ল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। মহাকাশযাত্রীদের নিরাপদে পৃথিবীতে নামানোর দ্বিতীয় ধাপের মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করল তারা।
পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার চিনুক এস হেলিকপ্টার, যা মহাকাশযানের বিকল্প হিসাবে কাজে লাগানো হয়েছিল। বিশেষভাবে তৈরি প্যারাসুট এবং নাইলনের শক্ত দড়ির মাধ্যমে মহাকাশযাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে বঙ্গোপসাগরের জলে অবতরণ করবেন, তা হাতে-কলমে দেখাল ইসরো, এটিকে বলা হচঅচে Air Drop Test. ইসরোর দাবি, গগনযান অভিযানে নভোশ্চরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মোট তিন ধাপের পরীক্ষা দরকার। তার মধ্যে দ্বিতীয় ধাপটি সফলভাবে শেষ হল রবিবার। আগামীতে ঠিক এই পদ্ধতিতেই বঙ্গোপসাগরের জলে নামবেন ভারতীয় নভোশ্চররা।
এই অভিযানের নেতৃত্বে থাকছেন শুভাংশু শুক্লা। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৪ দিন কাটিয়ে ফিরেছেন। ডিসেম্বরেই গগনযান মিশনের প্রথম ধাপ শুরু করতে চলেছে ইসরো, সেটি হবে মানববিহীন যান উৎক্ষেপণ। দ্বিতীয় ধাপে মানববিহীন যানকেই পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই মহাকাশযানে থাকবে বিশেষ অতিথি ‘ব্যোমযাত্রী’, ইসরোর তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষাতেই মহাকাশচারী হিসাবে মহাশূন্যে পাড়ি দেবে ব্যোমযাত্রী। তৃতীয় ধাপ ২০২৭-এর মাঝামাঝি। সেই সময় মহাকাশে রওনা দেবেন তিন ভারতীয় নভোশ্চর। ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে যা এক বিশাল মাইলফলক হতে চলেছে।