EX JU Student Detained: বাঙালি গবেষককে জঙ্গির সঙ্গে তুলনা! ব্রাত্যের গাড়িতে হামলা মামলায় বিস্ফোরক তথ্য – Bengali News | Ex JU Student Hindol Majumdar Detained in Delhi, Presented in Alipore Court
বাঁদিকে হিন্দোল মজুমদার, ডানদিকে ব্রাত্য বসুImage Credit source: নিজস্ব চিত্র
কলকাতা: বাঙালি গবেষককে জঙ্গির সঙ্গে তুলনা। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য় বসুর গাড়িতে হামলায় কলকাতায় নিয়ে আসা হয় অভিযুক্ত হিন্দল মজুমদারকে। বুধবার মধ্য়রাতে স্পেন থেকে দিল্লিতে নামতেই তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের একটি দল। হিন্দোল যাদবপুরের প্রাক্তন ছাত্র। বর্তমানে স্পেনে পিএইচডি-র পড়াশোনা করছিলেন তিনি। কিন্তু কালের ফাঁকে সেই কৃতি ছাত্রই এখন মার্চ মাসে ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলার ‘মূল চক্রী’ ।
শুক্রবার তাঁকে দিল্লি থেকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। তোলা হয় আলিপুর আদালতে। অভিযুক্তকে ১০ দিনের হেফাজতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানায় পুলিশ। পাল্টা হিন্দোলের জামিন চেয়ে আবেদন জানায় তাঁর পক্ষের সওয়ালকারী।
আদালত সূত্রে খবর, এদিন অভিযুক্তের সওয়ালকারী কোর্টে দাবি করেন, পয়লা মার্চ অর্থাৎ ঘটনার দিন থেকে ৯ই মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতেও উঠেছে। সেই সময়কালে মোট ১৮ জনের নাম ছিল। কিন্তু তাতে তাঁর কোনও নাম ছিল না। এরপরেও কোন ভিত্তিতে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছে? এটা একজন গবেষকের সাংবিধানিক অধিকার খর্বের সমান।
অভিযুক্তের সওয়ালকারী আরও বলেন, “লুক আউট নোটিস জারি করে দিল, কাউকে জানান হল না। কাউকে নোটিস দেওয়া হল না। কাকে গ্রেফতার করছেন উনি তো কোনও অপরাধী নন। যার এখানে বাড়ি, তিনি তো পালিয়ে যেতে পারবে না। যদি তদন্তে ওনাকে প্রয়োজন ছিল, তা হলে নোটিস পাঠাতে পারত। তিনি বিদেশে থাকেন। তারপরেও কীভাবে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ?” এরপরেই আদালতের কাছে অভিযুক্তের জামিনের আবেদন জানান আইনজীবী।
পাল্টা লুক আউট নোটিস যে আদালত নয়, পুলিশ সুপার জারি করেন, কক্ষে সেই দাবিই করেন রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল। এমনকি, অভিযুক্তের দশ বছরের সাজা হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুনানি চলাকালীন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার প্রমাণ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী। সেই ভিত্তিতে বেশ কিছু হোয়াটসঅ্য়াপের চ্য়াটের কথাও বলেন তিনি। অবশ্য, অভিযুক্তের দাবি, “জাতীয় পতাকা পোড়ানোর মত রুচি আমার নেই।”
এই গোটা মামলার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রসঙ্গ হল জঙ্গি-প্রসঙ্গ। অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মারি কুরি ফেলোশিপ পেয়ে স্পেনে পড়তে যাওয়া যাদবপুরের প্রাক্তনীর জামিন আবেদন বিরোধিতায় রাজ্যের আইনজীবী তুলে ধরেন সন্ত্রাসবাদী আফতাব আনসারির কথা। তিনি বলেন, কলকাতায় আমেরিকা সেন্টারে হামলায় সশরীরে আফতাব স্পটে ছিলেন না। দুবাইয়ে বসে ষড়যন্ত্র করেন। এখানে এক্সজিকিউট হয়েছিল। আমরা ঝাড়খন্ড থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করি। বেরিয়ে এসেছিল ষড়যন্ত্রের তথ্য। পরে দুবাই থেকে গ্রেফতার হয়েছিল আফতাব।
দু’পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনার পর আপাতত অর্ডার রিজার্ভ রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে আদালত সূত্রে।
