Indian US Trade: বোড়ে চালে ভারতের কৃষকদেরই ‘মারতে চান’ ট্রাম্প – Bengali News | Modi the Firewall of Farmers, What Stumbling Block in India USA Talks
নয়াদিল্লি: হাতে কাঁটায়-কাঁটায় ১৭ দিন। ভারত-আমেরিকা সমঝোতা আলোচনাও কবেই বন্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর সেই আবহেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন, কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না ভারত। কিন্তু ভারত-মার্কিন শুল্ক সমঝোতায় কৃষক ‘স্বার্থ’ কীভাবে ঢুকে পড়ল?
৭ই অগস্ট। দিল্লিতে এমএস স্বামীনাথন শতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গিয়ে বক্তৃতা দিলে মোদী। তাঁর কথায় উঠল আমেরিকার শুল্ক প্রসঙ্গ। তাও আবার প্রথমবার। এদিকে ট্রাম্প কিন্তু সময় বেঁধে দিয়েছেন। নতুন মাস পড়ার আগেই তিনি ছুড়ে দিয়েছেন শুল্কবাণ। প্রথমে সময় মতো সমঝোতা না করার ‘অভিযোগে’ ২৫ শতাংশ। তারপর রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘জরিমানা’ স্বরূপ আরও ২৫ শতাংশ। তবে এই দ্বিতীয় পর্যায়ের ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে ২৭ অগস্ট থেকে।
মোদী যখন বক্তৃতা দিচ্ছেন ট্রাম্পের সেই শুল্কের ঘড়ি কিন্তু তখনও চলছে। প্রতি মুহূর্তে সে জানান দিচ্ছে হাতে সময় কম। কিন্তু ভারত সেই সময়ের চাপে দমার নয়। নয়াদিল্লি থেকে ওই ইঙ্গিতেই গেল বার্তা। মোদী বললেন, “কৃষকদের স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারত কখনও কৃষক, গোপালক, মৎসজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না। আমি জানি ব্যক্তিগত ভাবে এর জন্য আমাকে চড়া মূল্য চোকাতে হবে। কিন্তু আমি তার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।”
কিন্তু কৃষকের স্বার্থে কীভাবে নাক গলানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা? একটি পরিসংখ্য়ান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত আমেরিকার থেকে প্রায় ১ হাজার ৬৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কৃষি পণ্য আমদানি করেছে ভারত। উল্টোদিকে, ভারত এই সময়কালে রফতানি করেছে ৩ হাজার ৪৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কৃষি পণ্য। তবে এই আমদানি-রফতানি অব্যাহত থাকবে কিনা সেই নিয়ে এখন সন্দেহ রয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের শুল্কবাণে চাপে পড়েছে এই সেক্টরও।
সাধারণ ভাবে আমেরিকা থেকে কৃষিপণ্য হিসাবে ভারত আমদানি করে বাদামজাত খাদ্যগুলি। যার সঙ্গে আবার নব্য সংযোজন হয়েছে, ইথানল, সয়াবিনের তেল এবং তুলো। গত বছরই আমেরিকা ভারতে প্রায় ৪২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি করেছে। স্বাভাবিক ইথানলের ব্যবহার জ্বালানি ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে। গাড়ির জ্বালানিকে পরিবেশবান্ধব করতে ইথানল মেশানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তবে আমেরিকা থেকে আসা ইথানল কিন্তু মোটেই এই কাজে ব্যবহার হয় না।
সেগুলি যায় ওষুধ, রাসায়নিক ও নানা শিল্পাঞ্চলের কাজে। যাতে আপত্তি আমেরিকার। তাদের দাবি, ভারত যেন মার্কিন ইথানলকে জ্বালানির কাজেও ব্যবহার করে। তাতে তাদের ব্যবসা বাড়বে। কিন্তু পক্ষান্তরে মারা পড়বে দেশের কৃষকরা। যাতে আপত্তি নয়াদিল্লির।
ইথানলের সঙ্গে দেশের কৃষকরা কীভাবে জড়িয়ে? ইথানল তৈরি হয় আখ থেকে। ২০২১ সালের একটি পরিসংখ্যা অনুযায়ী, ভারত ওই বছর ৫ হাজার লক্ষ মেট্রিক টন আখ চাষ করেছিল। এছাড়াও দেশীয় আখ দিয়ে ইথানল তৈরিও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। শুধুই ইথানলই নয়। ভারত আপত্তি তুলেছে মার্কিন সয়াবিন নিয়েও। আমেরিকা চায় তাদের দেশে তৈরি হওয়া সয়াবিন ও সয়াবিন তেল ভারতে পাঠাতে।
কিন্তু ওদের দেশের সয়াবিনের সঙ্গে আমাদের সয়াবিনের বিস্তর ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকায় যে সয়াবিন ফলানো হয় তা জিনগত ভাবে পরিবর্তীত, স্বাভাবিক নয়। আর ভারত সেই সয়াবিনকে খাওয়ার জন্য অনুমোদন দেয় না। সেই কারণেই তো মাঝে আমেরিকা থেকে ভারতে সয়াবিন তেলের আমদানি বেড়ে গেলেও, তা আবার কমে ১৬.৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে। মোদীর কথায় উঠে এসেছিল পশুপালকদের কথাও। ট্রাম্পও সেটাই চান। ভারতে দুগ্ধজাত সামগ্রী রফতানিতে মরিয়া তারা। কিন্তু আমেরিকা নিজেই দাবি করেন, তাদের গরুগুলিকে নানা রকমের পশুর রক্ত-সহ বিভিন্ন সামগ্রী গো-খাদ্য খাইয়ে থাকা তারা। যা ভারতের সংস্কৃতির পরিপন্থী ও এই দেশে যেহেতু বহু মানুষ নিরামিষ ভোজী। তাই সেই গরু তৈরি থেকে দুগ্ধজাত পণ্যকে কোনও মতেই ‘এন্ট্রি’ দিতে নারাজ নয়াদিল্লি। যার শুল্কচুক্তিও আটকে অনিশ্চয়তায়।
