Explained: যৌনঙ্গে এই রোগ কতটা ভয়ঙ্কর, সঙ্গমে কি ছড়ায়? - Bengali News | All you should know about the STD named Genital Herpes - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: যৌনঙ্গে এই রোগ কতটা ভয়ঙ্কর, সঙ্গমে কি ছড়ায়? – Bengali News | All you should know about the STD named Genital Herpes

Spread the love

হারপিস, নামটা শুনলেই এখনও কুঁকড়ে যান অনেকেই। একবার হলে যন্ত্রণার শেষ থাকে না। সঙ্গে লাল লাল র‍্যাশ বা অনান্য উপসর্গ তো রয়েছেই। কেউ বলেন হারপিস একবার হয়ে গেলে আর ভয় নেই। কেউ বলেন এমন কোনও কারণে নিশ্চিন্ত হওয়ার মানেই হয় না। হারপিস ফিরে আসতে পারে বারবার। তবে আমাদের এই প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয় কেবল সাধারণ হারপিস নয়। বরং তার থেকেও বেশি কিছু। জেনিটাল হারপিস (Genital Herpes)। এই হারপিস সাধারণের চেয়েও আরও কয়েকগুণ ভয়ঙ্কর। কিন্তু কেন এই রোগ নিয়ে এখন আলোচনা করছি? জেনিটাল হারপিস আসলে কী? কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হতে হবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে টিভি৯ বাংলা ডিজিটাল যোগাযোগ করেছিল প্রখ্যাত ত্বক বিশেষজ্ঞ গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বলছেন তিনি?

জেনিটাল হারপিস রোগটি কী?

হারপিস ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মানুষের ছড়িয়ে ছড়ায় এই বিশেষ রোগ। হারপিস সাধারণত দু’ধরনের। তার মধ্যে হারপিক্স সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ছড়ায় এই জেনিটাল হারপিস। জেনিটাল হারপিস নামটা শুনলেই বোঝা যায় রোগটি আসলে হয় যৌনাঙ্গে। এই রোগের সংক্রমণের কারণ অসুরক্ষিত যৌন সংক্রমণ। সাধারণত যৌনবাহিত রোগ (Sexually Transmitted Disease or STD) নাম শুনলেই উলটে দিকে হাঁটেন এখনও বহু মানুষ। চিকিৎসকদের মতে এই সামাজিক ট্যাবু এবং লজ্জাই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে অনেকের জন্য। সঠিক সময় চিকিৎসার অভাবে প্রকোপ বাড়ছে এই সব রোগের। ভেতর ভেতর হয়ে যাচ্ছে বড় ক্ষতিও।

কেন এখন এই রোগ নিয়ে আলোচনা?

এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। অতি সম্প্রতি ব্রিটেনে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ায় বহুল প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বজনীন। সেটি হল এই প্রথম বিশ্বে কোনও সরকার দেশবাসীর জন্য গনোরিয়ার টিকাকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রসঙ্গত, বলে রাখা ভাল গনোরিয়াও কিন্তু এইডস বা জেনিটাল হারপিসের মতোই একটি যৌনবাহিত রোগ। বলা ভাল গুপ্ত রোগ, যা নিয়ে মানুষ আলোচনা করতে স্বাছন্দ্য বোধ করেন না। কিন্তু আলোচনা না করলেও নিঃশব্দে বেড়েছে গনোরিয়ার প্রকোপ। তাই গনোরিয়ার রেকর্ড বৃদ্ধি যাতে গণ সমস্যার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় তাই সরকার থেকে আয়োজন করা হয় এই টিকাকরণ উদ্যোগের।

ঠিক তেমনই নীরবে প্রকোপ বাড়ছে জেনিটাল হারপিসেরও। চিকিৎসক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, আজকাল বাড়ছে এই জেনিটাল হারপিস রোগের প্রকোপ। অথচ মানুষের এই সমন্ধে এই সচেতনতা অত্যন্ত কম। চিকিৎসা না করালেও অনেকি সময় নিজে থেকে সেরে যায় বলে অনেকেই বিষয়টিকে লঘু করে দেখেন। তবে তা উচিত নয়।

এই রোগে আক্রান্ত হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

গৌতম বাবু জানান, হারপিসের মধ্যে দুটি ভাগ টাইপ ১ এবং টাইপ ২। এর মধ্যে টাইপ ১ বেশি হয় মুখের দিকে। টাইপ ২ বেশি যৌনাঙ্গে।

প্রাথমিক অবস্থায় পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গে ছোট ছোট ফুসকড়ি মতো দেখা যায়। অনেকটা ঘামাচির মতো দেখতে হয়। তার সঙ্গে থাকে হালকা থেকে ভারী ব্যথাও। সেখানে জ্বালাভাব হতে পারে। পরে সেখানে ছোট ক্ষত হতে পারে। যা আলসারে পরিণত হতে পারে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা অনেক সময় বোঝা যায় না। তবে জ্বালা করলে বা ব্যথা হলে তখন চোখে পড়ে। সেই ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলে ছড়ায় এই রোগ।

গৌতমবাবু বলেন, “সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এটাই পরবর্তীকালে বড় হয়ে ফেটে গিয়ে আলসার হয়। সেই আলসার অবশ্য পরে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এই রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, জেনিটাল হারপিসকে আমরা সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পারি না।”

সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয় জেনিটাল হারপিস?

গৌতমবাবু জানান, জেনিটাল হারপিস একবার হলে তা সেই রোগীকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। এই রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে যৌন সংক্রমণের মাধ্যমেই। চিকিৎসক জানান, হারপিক্স সিমপ্লেক্স ভাইরাসটি যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটে। এটি যৌনাঙ্গে হয়। সেরে যায়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আবার ফিরে আসে।

এই রোগ থেকে মুক্তির উপায় কী?

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, যখন জেনিটালে হারপিস হবে তখনই চিকিৎসা করাতে হবে। একটাই ভাল দিক হল, ওষুধ শুরু হলে ২-৪ দিনের মধ্যেই সেরে যায় এই রোগ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যদি দেখা যায় কোনও ব্যক্তির বছরে একবার থেকে দু’বার এই রোগ হচ্ছে তাহলে যখন হচ্ছে তখন চিকিৎসা করাই যথেষ্ট।

অনেক সময় দেখা যায় কারও কারও বছরে ৫-৬ বারের বেশি হতে পারে এই রোগ। সেই ক্ষেত্রে সাবধান হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তখন তাঁদের একটু দীর্ঘ সময় চিকিৎসার প্রয়োজন। এক ধরনের বিশেষ অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগ পাওয়া যায়, তা টানা ব্যবহার করতে হয়। সেটা ৬মাস থেকে এক বছরও হতে পারে। বিশেষ করে বিবাহিত কোনও দম্পতি যদি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন কিন্তু জেনিটাল হারপিসে আক্রান্ত হন, তাঁদের জন্য এই চিকিৎসা বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয়।

একবার আক্রান্ত হলে কী করা উচিত? যৌনসঙ্গীর কী করণীয়?

গৌতম বাবু জানাচ্ছেন এই সময় চিকিৎসা যেমন করাতে হবে তেমনই যৌন সঙ্গম থেকেও বিরত থাকতে হবে। তবে একান্তই যদি যৌন সঙ্গম করেনও তাহলে কন্ডোম ছাড়া কখনই না। কন্ডোম পারে এই রোগের হাত থেকে আপনাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষির রাখতে। যদি কোনও যৌন সঙ্গী থেকে থাকেন তাহলে তাঁরও একবার টেস্ট করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

গর্ভবতী মহিলা জেনিটাল হারপিসে আক্রান্ত হলে কী করবেন?

মনে রাখবেন যদি গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে জেনিটাল হারপিস হয়, তাহলে ওষুধ দিলেই তা কমে যায়। অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে সন্তান জন্মের আগেও এই রোগের ওষুধ দিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসক জানান, একটাই ভাল দিক হল শিশুকে সারাজীবন এই রোগ বয়ে বেড়াতে হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করলেই তা সেরে যায়। তাছাড়া জীনগত খুব একটা এই রোগ ছড়ায় না।

আর কী ভয় থাকে?

গৌতম বাবু জানাচ্ছেন, হারপিক্স সিমপ্লেক্স ভাইরাস এমনিতে খুব একটা ভয়ের কারণ না হলেও এর থেকে অন্য রোগ ছড়াতে পারে। হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। তা থেকে জ্বর হওয়া, সংক্রমণের জায়গা ফুলে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যৌন জীবনে কী প্রভাব পড়ে?

চিকিৎসক বলেন, “এই রোগ যৌন জীবনে ভীষণ রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রোগীর নিজের মনের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। যৌন ক্ষমতার উপর হারপিস সরাসরি কোনও প্রভাব ফেলে না। তবে মানসিক অবসাদ এবং চিন্তা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। যৌন জীবনকেও ব্যহত করতে পারে। কমে যেতে পারে যৌন উত্তেজনাও।”

কী করা উচিত?

গৌতম বাবুর পরামর্শ, এই সব ক্ষেত্রে লজ্জা না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যে কোনও যৌন রোগ এড়ানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হল নিজের যৌন সঙ্গী বারবার পরিবর্তন না করা। করলেও অতি অবশ্যই কন্ডোম ব্যবহার করা। যদি কোনও রোগ হয়ে যায়, তাহলে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনে কাউন্সিলের সাহায্য নিতে পারেন। মনে রাখবেন সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাই পারে আপনাকে ফের সুস্থ করে তুলতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *