অজয়-ভাগীরথীর জলবৃদ্ধি, প্লাবিত কাটোয়া-নদিয়ার বহু এলাকা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ
গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে বঙ্গে। তারফলে বেড়েছে নদীর জলস্তর। তবে অজয় ও ভাগীরথী নদীর জলস্তর আচমকাই বেড়ে যাওয়ায় পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়ার একাধিক নিম্নাঞ্চল এখন প্লাবিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পূর্ব বর্ধমানের পানুহাটের দরানিপাড়া এবং তার ঠিক পাশেই ভাগীরথীর অপর পাড়ে নদিয়ার নয়াচর গ্রামে ঢুকে পড়েছে নদীর জল।
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টি, DVCর ছাড়া জলে বন্যার আশঙ্কা, ৪ জেলায় নজরদারিতে বিশেষ টিম নবান্নের
দুই জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এবং বসতি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোমর সমান জলে ডুবে গিয়েছে রাস্তাঘাট। কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, রাতে বাড়ির ভেতরেও জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বাসিন্দাদের দাবি, শুক্রবার সকালে স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের কাটোয়া শহরে আনতে গিয়ে কোমর জলে হেঁটে আসতে হয়েছে। নয়াচর, দরানিপাড়া, কাঠগোলাপাড়া, হরিসভাপাড়া, শ্মশানঘাট এই সব নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে স্রোতের সঙ্গে জলস্তরও ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ভাগীরথীর জলে এখন গ্রামের ভেতরেই স্রোত বইছে। জমিতে পটল আর পাটের চাষ হয়েছিল, সবই জলের তলায় চলে যাচ্ছে। বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছেন তাঁরা।
এদিকে, কাটোয়ার শাঁখাই ও বল্লভপাড়া ফেরিঘাট পুরোপুরি জলের তলায়। ভাগীরথীর সঙ্গে অজয়ের মিলনস্থলও এখন জলমগ্ন। কাটোয়ার শাঁখাই ফেরিঘাটে ভাসমান জেটির অবস্থান ইতিমধ্যেই দু’বার বদলাতে হয়েছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় দাঁইহাটের মাটিয়ারি ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
কাটোয়া পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভাগীরথীর ধার ঘেঁষা এলাকাগুলিতে হাঁটু পর্যন্ত জল জমেছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর সাহা। জলস্তর এখনও চূড়ান্ত বিপদসীমা পার না করলেও বর্তমান পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা। বর্ষা ও ব্যারেজ থেকে লাগাতার জল ছাড়ার ফলে ভাগীরথীর জল বাড়ছে বলেই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।