যৌনরোগ বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে, কাউন্সেলিংয়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

যৌনরোগ বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে, কাউন্সেলিংয়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, বাংলার মুখ

ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ছে যৌনরোগ! হাসপাতালে কাউন্সেলিংয়ের সময় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। জানা যাচ্ছে, মূলত অল্প বয়সি যুবকদের মধ্যে যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। তবে লজ্জায় বা ভয়ে অনেকেই পরিবারের কাছে সেই কথা জানাতে পারছেন না। ফলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: ৬ বছর ধরে নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক, দেখা মিলল ফেসবুক রিলসে, পুলিশে গেল পরিবার

কিন্তু, পরিযায়ী শ্রমিকরা কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন?

চিকিৎসকদের বক্তব্য, যুবকরা পেটের তাগিদে ভিনরাজ্যে কাজে গেলেও সেখানে অনেকেই হোটেলে গিয়ে রাতভর টাকা ওড়াচ্ছেন মক্ষিরানিদের পিছনে। আর তারফলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে যুবকদের মধ্যে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাউন্সেলিং করার সময় এই তথ্য সামনে এসেছে। ভিন রাজ্য থেকে ফিরে এসে হাসপাতালের আইসিটিসি বিভাগে এসে পরিযায়ী শ্রমিকরা পরীক্ষার পর জানতে পারছেন তাঁরা এই রোগে আক্রান্ত। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কাটোয়া মহকুমাজুড়েই পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে। এই অবস্থায় এই সব পরিযায়ী শ্রমিকদের কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির আইসিটি বিভাগে।

প্রসঙ্গত, নিয়ম রয়েছে কেউ যৌনরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যদেরও রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। তবে এই রোগে আক্রান্তরা অধিকাংশই হাসপাতালের আইসিটি বিভাগের কর্মীদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানাচ্ছেন। ফলে বিষয়টি গোপন রেখে অন্যভাবে রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। কাউন্সেলিংয়ে দেখা গিয়েছে, এই বয়সি পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই হোটেলে ফুর্তি করতে যান। মক্ষিরানিদের পিছনে টাকা উড়িয়ে গা ভাসিয়ে দেন রঙিন দুনিয়ায়। আর অজান্তেই তাঁরা যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। কেতুগ্রাম, দাঁইহাট, পানুহাট সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২২ জন এইচআইভি আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন মহিলা। ২০২৪ সালে ১১ জন নতুন আক্রান্তকে পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত কাটোয়া মহকুমা থেকে ৫ ব্লকেই কয়েক হাজার যুবক রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, কেরল, চেন্নাইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যান। কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কেউ আবার সোনা রুপোর অথবা অন্য কাজ করেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, আক্রান্তদের অনেকেরই নিয়মিত কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *