ছেলের গলায় কোপ বসাল বাবা, অপারেশনের সময় ডাক্তারকে ছুরি মারল যুবক
ছেলের গলায় কোপ বসিয়ে দিয়েছিল বাবা। অস্ত্রোপচারের সময় অপারেশন থিয়েটারে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাল সেই জখম যুবক। চিকিৎসকের শরীরে ঢুকিয়ে দিল কাঁচি। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলুস্থুল পড়ে গেল হাসপাতালে। শেষপর্যন্ত যুবকের হাত পা বেঁধে করা হল অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকের শরীরেও সেলাই পড়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায় হাসপাতাল চত্বরে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এমন ঘটনায় যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: ময়নাতদন্ত ঠেকাতে চিকিৎসককে হুমকি রোগীর পরিবারের, রাত পাহারায় ডাক্তারি পড়ুয়ারা
পুলিশ এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম বাপন হালদার। বাড়ি মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার হোগলা দাঁয়ের গ্রামে। পরিবার এবং আত্মীয়দের দাবি, বাপন গত কয়েক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু, ঠিকমতো ওষুধ খায় না। পরিবারের সদস্যদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করে সে। এমনকী পরিবারের সদস্যদের মারধরও করে বাপন। তবে শুক্রবার ওই যুবক অত্যাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
অভিযোগ, ওইদিন আচমকা হাঁসুয়া নিয়ে বাবার দিকে তেড়ে যায় বাপন। সে তার বাবাকে কোপ মারার চেষ্টা করে। সেইসময় কোনওভাবে নিজেকে রক্ষা করেন তার বাবা। এরপর তিনি হাঁসুয়া ছিনিয়ে নিয়ে উল্টে বাপনের গলায় কোপ বসান। ঘটনায় বাপন গুরুতর জখম হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরেই নতুন সমস্যা শুরু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় যখন বাপনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার গলায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। সেই মতো তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। এরপরে সেখানে একটি কাঁচি ওই চিকিৎসকের হাতে ঢুকিয়ে দেয় বাপন। তখন অপারেশন থিয়েটারে ছুটে যান নিরাপত্তাকর্মীরা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ জানিয়েছেন, ওই যুবক যে মানসিক ভারসাম্যহীন তা আগে বোঝা যায়নি। ফলে তাকে সাধারণ রোগীদের মতোই অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে যে যুবক এমন কাণ্ড করে বসবে, তা কেউই আঁচ করতে পারেননি। পরে ওই যুবকের হাত পা বেঁধে অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই চিকিৎসকের হাতে সেলাই পড়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। এই ঘটনায় যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।