RG Kar: ‘অন-স্পট’ তিলোত্তমার ডেথ সার্টিফিকেট দিতে বলা হয়েছিল মেডিক্যাল অফিসারকে, সামনে এল বিস্ফোরক বয়ান – Bengali News | RG Kar Case: EMO Poli Samaddar was asked to issue death certificate of victim on spot, she denied
কলকাতা: আরজি কর-কাণ্ডে প্রশ্ন রয়েছে ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর সময় নিয়ে। মৃত্যুর সময় কেন দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট লেখা হল, সেটাই প্রশ্ন। এমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার পলি সমাদ্দারের বয়ানে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কী বলেছেন তিনি, ডেথ সার্টিফিকেট লেখার সময় সব নিয়ম মানা হয়েছে কি না, সেই সব তথ্য সামনে এল এবার। TV9 বাংলার হাতে উঠে এল এক্সক্লুসিভ নথি।
সিবিআই-এর কাছে পলি সমাদ্দার যে বয়ান দিয়েছেন, তা বিস্ফোরক। মেডিক্যাল অফিসার পলি জানিয়েছেন, ৯ অগস্ট সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিভাগীয় প্রধান তাঁকে চেস্ট মেডিসিন বিভাগে ডেকে পাঠান। তৎক্ষণাৎ এমার্জেন্সি টিকিট ইস্যু করে অন স্পট ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে তাতে রাজি হননি এমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার।
নিয়ম অনুযায়ী, মৃতার দেহ শণাক্তকরণের পাশাপাশি এমার্জেন্সিতে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতের নাম, পরিচয় জানা প্রয়োজন হয়। এই সব তথ্য পেলেই এমার্জেন্সি থেকে ডেথ সার্টিফিকেট মিলবে বলে জানান ইএমও। বিভাগীয় প্রধান দেহ শনাক্তকরণে রাজি না হলে ইএমও এমার্জেন্সি বিভাগে চলে যান।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট। ফের ইএমও-কে ডেকে পাঠান বিভাগীয় প্রধান। সেমিনার রুমে পৌঁছনোর পর টালা থানার এসআই সৌরভ কুমার ঝা তিলোত্তমার নামে একটি এমার্জেন্সি টিকিট দেখান। এই টিকিট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এসআই মৃতদেহ এমার্জেন্সিতে নিয়ে যান। এই সব দেখে এমএসভিপি সঞ্জয় বশিষ্ঠকে ফোন করেন পলি সমাদ্দার।
এমএসভিপি-কে পলি জানান, আঘাত পরীক্ষা করে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার জন্য মৃতদেহ এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, কিন্তু তাঁকে অন স্পট দেহ পরীক্ষা করে ডেথ সার্টিফিকেট দিতে বলা হচ্ছে। এমএসভিপি ইএমও’কে বলেন, “দেহ এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”
এমএসভিপি-র কথা মতো উপর-উপর পরীক্ষা (peripheral examination) করে ডেথ সার্টিফিকেট দেন বলে দাবি করেছেন ইএমও। এমার্জেন্সি টিকিট দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে ইস্যু করা হয়েছিল। তাই ডেথ সার্টিফিকেটে সময় দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট লেখা হয়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর কেস রুজু হয় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। অর্থাৎ হিসেব বলছে, ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যু সময় ঘোষণা করা হয় দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে আর মৃত ঘোষণার আগেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়ে গেল!