Calcutta High Court: ‘নিজেদের অফিসের সামনে হকার সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না’, পুরনিগমের কাজে অসন্তোষ প্রধান বিচারপতির – Bengali News | High court chief justice comment to Kolkata municipal corporation on Gardenrich Case
কলকাতা পুরনিগমকে নির্দেশ প্রধান বিচারপতিরImage Credit source: GFX- TV9 Bangla
কলকাতা: গার্ডেনরিচের মতো ঘটনা আবারও ঘটবে, আবারও মানুষের মৃত্যু হবে, কিছু লোককে গ্রেফতার করা হবে, তারা ১০ দিন পর জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও সেই কাজ করবে। গার্ডেনরিচের বাড়ি ভেঙে যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে এমনই বললেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। কলকাতা পুরনিগমের রিপোর্ট দেখেও খুব একটা সন্তোষ প্রকাশ করেননি প্রধান বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, ‘খাতায়-কলমে দেখে সব ভালই লাগছে। কিন্তু আসলে কিছুই হচ্ছে না।’
আদতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সদিচ্ছা নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। পুরনিগমকে মনে করিয়ে দেন, তাদের দফতরের সামনে হকার-সমস্যাও মেটানোর কোনও উদ্যোগ কখনও নেওয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব, কিন্তু সেটা না থাকলে কিছুই হবে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করলে, সরকারি আধিকারিকদের হাত বেঁধে রাখলে কোনওদিনই কিছু হবে না।”
এরপরই পুরনিগমের উদ্দেশে ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করে, “আপনারা নিজেদের অফিসের সামনে হকার সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না, কারণ সদিচ্ছার অভাব।” কোনও দিন এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন? প্রধান বিচারপতি জানান, একটি ছবিতে তিনি গার্ডেনরিচের আরও একটি হলুদ রঙের বাড়ি দেখেছেন, যার অবস্থা ভাল নয়। সে ব্যাপারে কী করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত।
এছাড়া পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করার পর যদি ছোট জলাশয় তৈরি করে দেওয়া হয়, তাতে আদৌ ক্ষতিপূরণ হয় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, প্রশাসনের সদিচ্ছা না থাকলে, আইন-কানুন দিয়ে কিছুই করা যাবে না। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম বলেন, ‘এ যেন অস্ত্রোপচার সফল, কিন্তু রোগী মৃত।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই সব ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি যদি বলেন কিছু জানেন না, তাহলে তাঁকে অপসারণ করা উচিত।’
হাইকোর্টের নির্দেশ, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার অব অ্যাসুরেন্স বৈধ অনুমোদন নেই এমন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তিকে সেল ডিড বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে পারবেন না। এছাড়া গার্ডেনরিচের ঘটনায় নিহতের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের দেড় লক্ষ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার কাউন্সিলর শামস ইকবাল এবং গ্রেফতার হওয়া প্রোমোটারকে মামলা সংক্রান্ত নোটিস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে অন্তর্বর্তী নির্দেশে। আগামী ৯ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।