কাকার শ্রাদ্ধে যোগ দিতে রামলীলায় অনুপস্থিত! নেতাকে বহিস্কার করল কংগ্রেস

নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের যুব শাখা ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস নিল চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত।(Rohit Rajoria) দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের বিশাল সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে…
নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের যুব শাখা ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস নিল চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত।(Rohit Rajoria) দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের বিশাল সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের এক নেতাকে সস্পেন্ড করা হয়েছে। বহিস্কৃত নেতা রোহিত রাজোরিয়া। তিনি সেদিন নিজের কাকার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। আগে থেকেই পার্টিকে জানিয়েও কোনো ছাড় পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় পার্টির ভিতরে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
১ নভেম্বর দিল্লিতে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বড় সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। সেই সমাবেশে উপস্থিত না থাকার কারণে দেশজুড়ে প্রায় দুশোর বেশি ইয়ুথ কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে সস্পেন্ড করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশেই ৬০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে রোহিত রাজোরিয়া অন্যতম। তিনি পার্টিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। একাধিকবার পার্টির কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এফআইআর ও জেল খাটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
আরও দেখুনঃ ‘শিল্পে বাঁধা দিলে ১৫ মিনিটে জেল!’ বিরোধীদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
রাজোরিয়া জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসে তাঁর কাকার মৃত্যু হয়। ১ নভেম্বর সেই কাকার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের দিন ছিল। বাড়িতে অতিথিদের আনাগোনা চলছিল। তিনি আগে থেকেই রাজ্য সভাপতি ও অন্যান্য নেতাদের জানিয়ে অনুমতি চেয়েছিলেন।
শ্রাদ্ধের আমন্ত্রণপত্রও দেখিয়েছেন। তার পরও কোনও কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়েই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পরিবারের এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পার্টির শাস্তি পাওয়াটা অন্যায়।
এই ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে কংগ্রেসে কি গান্ধী পরিবারের প্রতি আনুগত্য পরিবারের দায়িত্বের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে? (Rohit Rajoria)পার্টির শৃঙ্খলার নামে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ কর্মীরা কীভাবে অনুপ্রাণিত থাকবেন? অন্যান্য সস্পেন্ড হওয়া নেতারাও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণ জানিয়েছেন। কেউ ভাইয়ের সন্তানের জন্ম, কেউ পরিবারের অন্যান্য জরুরি কাজের কথা বলেছেন। তবুও কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।
ইয়ুথ কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্ব অবশ্য এই পদক্ষেপকে সংগঠনগত শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন বলে দাবি করেছে। তাঁদের মতে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে চলতি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। অনুপস্থিতি মানেই দায়িত্বে অবহেলা। তবে অনেক কর্মী মনে করছেন, পরিবারের শোকের সময় এমন কঠোরতা পার্টির মানবিক মুখকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। (Rohit Rajoria)বিজেপিসহ বিরোধীরা কাংগ্রেসের এই মানসিকতাকে নিয়ে সমালোচনা করছে। তাঁদের বক্তব্য, পার্টিতে ব্যক্তিপূজা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পরিবারের মৌলিক দায়িত্বও উপেক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কাংগ্রেস সমর্থকরা বলছেন, বড় আন্দোলনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সংগঠনের জন্য জরুরি।
রোহিত রাজোরিয়ার মতো কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পার্টির জন্য ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন। তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে শাস্তি দেওয়া পার্টির অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে আরও বিষিয়ে তুলতে পারে। অনেকের আশঙ্কা, এতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে।