ঘুমন্ত পথবাসীদের উপরে জল, বিতর্ক দক্ষিণেশ্বরে
এই সময়, দক্ষিণেশ্বর: উৎসবের মুখে পথবাসীদের উচ্ছেদ করতে চরম অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠল কামারহাটি পুরসভা এলাকায়। গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই ঘুমন্ত সহায়-সম্বলহীন মানুষের উপরে হোস-পাইপ দিয়ে তীব্র বেগে জল ছেটানোর ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়েছে দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক চত্বরে। মন্দির দর্শনে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য রাস্তা পরিচ্ছন্ন করার অজুহাতে এই ‘অভিযান’ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াকের ১২ নম্বর গেটের নীচে। মন্দির চত্বরে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন গুজরান করা কয়েকজনের আশ্রয় ওই ফুটপাথ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েকজন যুবক আচমকাই পুরসভার একটি ট্যাঙ্কার থেকে ঘুমন্ত মানুষদের দিকে পাইপের মুখ ঘুরিয়ে দেন। আকস্মিক জলের ছাঁট লেগে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগে মশারি, জামাকাপড় ও যৎসামান্য পুঁটলি ভিজে যায় বলে অভিযোগ। তাঁরা কোনও মতে বাঁধানো বেদিতে উঠে আশ্রয়ের চেষ্টা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হতেই (যার সত্যতা ‘এই সময়’ যাচাই করেনি) শুরু হয়েছে নিন্দা।
নাগরিকদের একাংশের ক্ষোভ, কালীপুজো বা বড় উৎসবে পথ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি হলেও তা রূপায়ণে কেন ন্যূনতম সংবেদনশীলতা দেখানো হবে না? স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কাইওয়াকের প্রবেশপথে প্রতিদিন অবৈধ টোটো, অটো ও গাড়ির দৌরাত্ম্যে যে তীব্র যানজট তৈরি হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ-প্রশাসন নীরব। অথচ গভীর রাতে গৃহহীনদের উপরে এমন জোরজুলুম চালানো হচ্ছে।
অস্বস্তিকর এই ঘটনায় অবশ্য দায় এড়াতে চেয়েছে কামারহাটি পুরসভা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এমন কোনও অভিযানের কথা তাঁদের জানা নেই। অন্যদিকে, দক্ষিণেশ্বর মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরীর দাবি, স্কাইওয়াকের নীচে বিপজ্জনক হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুতের তার ও প্যানেল থাকায় সেখানে বসবাস নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, ‘কর্মীদের ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’