দরজায় ধাক্কা সহকর্মীদের, ঘরে উদ্ধার সিভিকের দেহ, রহস্য দত্তপুকুরে
এই সময়, দত্তপুকুর: গভীর রাতে বাড়িতে আচমকা হাজির হয়েছিলেন থানার পুলিশ ও সহকর্মীরা। তাঁদের পীড়াপীড়িতে গেট খোলার পর ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার হল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দত্তপুকুর থানার নিবাধুই এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অনির্বাণ বসু (৩৪)। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে বারাসত আদালতের এক মহিলা আইনজীবী এবং কয়েকজন সহকর্মী সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত আদালতের ওই মহিলা আইনজীবীর সঙ্গে অনির্বাণের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সম্পর্কের ইতি টানার পর থেকেই ওই আইনজীবীর তরফে অনির্বাণকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকী তাঁকে ভুয়ো মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও ভয় দেখানো হতো বলে অভিযোগ। এই ক্রমাগত চাপ ও আশঙ্কার জেরে অনির্বাণ গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
ঘটনার রাতে নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকে বসু পরিবার। মৃতের মা কল্পনা বসুর বয়ান অনুযায়ী, মধ্যরাতে দত্তপুকুর থানার পুলিশ ও বেশ কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের বাড়ির গেটে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। গেট খুলতেই পুলিশকর্মীরা সরাসরি অনির্বাণের ঘরের সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। তখনই পরিবারের লোকেরা ঘরের সিলিং থেকে অনির্বাণকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে সহকর্মীদের পাশাপাশি মহিলা আইনজীবীর নাম মেলায় পুরো ঘটনাটি অন্য মাত্রা পেয়েছে। মৃত্যুর আগে অনির্বাণ মোবাইলে কাউকে কোনও বার্তা পাঠিয়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃতের মায়ের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্ত করুক পুলিশ। সুইসাইড নোটের হাতের লেখা পরীক্ষার পাশাপাশি ছেলের মোবাইলের সমস্ত চ্যাট, কল রেকর্ড ও সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সুইসাইড নোট ও মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষা হবে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।