গ্রেফতারির সতর্কতা! কালীপুজোয় মাত্র ২ ঘণ্টা বাজি ফাটানোর অনুমতি
কলকাতা: কালীপুজোয় (Kalipuja 2026) বাজি ফাটানোর জন্য নির্দিষ্ট দু’ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। আগামী ৮ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র অনুমোদিত গ্রিন…
কলকাতা: কালীপুজোয় (Kalipuja 2026) বাজি ফাটানোর জন্য নির্দিষ্ট দু’ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। আগামী ৮ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র অনুমোদিত গ্রিন ক্র্যাকার বা পরিবেশবান্ধব বাজি ফাটানো যাবে। রাত ৮টার আগে কিংবা ১০টার পরে বাজি ফাটালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতারিও হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি ফাটানো যাবে না। শুধুমাত্র শংসাপত্রপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। প্রচলিত সাধারণ বাজির উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। পাশাপাশি দমকল বিভাগের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া আকাশবাতি ওড়ালেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭ থেকে ৯ নভেম্বর বিশেষ নজরদারি
বাজি ফাটানোর নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (WBPCB)। পর্ষদের সদস্য-সচিব অশোক প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, ৭ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (CCC) চালু থাকবে।
কলকাতা, বিধাননগর ও হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারের দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই কেন্দ্র। কোথাও নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে এই নজরদারি ব্যবস্থার উপর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্ধারিত দু’ঘণ্টার সময়সীমা কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশেও বহাল রয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এবারও সেই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
ছটপুজোয় বাজি ফাটানোর সময়সীমা
শুধু কালীপুজো নয়, ছটপুজোর ক্ষেত্রেও বাজি ফাটানোর সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে বলে জানিয়েছেন পর্ষদের সদস্য-সচিব।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও থাকছে কড়া নজরদারি। শব্দ উৎপন্নকারী বাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল নির্ধারিত রয়েছে। আলো উৎপন্নকারী আতশবাজির ক্ষেত্রে সীমা ৯০ ডেসিবেল। হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য নির্ধারিত নীরব এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
গ্রিন ক্র্যাকার চেনার নিয়মে বদল
এবার পরিবেশবান্ধব বাজি চেনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে গ্রিন ক্র্যাকারের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য QR কোড ব্যবহার করা হত। কিন্তু অভিযোগ উঠেছিল, কিছু অসাধু প্রস্তুতকারক আসল সংস্থার QR কোড নকল করে অননুমোদিত বাজিকে শংসাপত্রপ্রাপ্ত পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে। সেই কারণে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (NEERI) QR কোড-ভিত্তিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে।
পরিবেশ দফতরের সচিব সুমিত গুপ্ত জানিয়েছেন, NEERI এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO)-এর নথিভুক্ত প্রায় ১,৭০০ অনুমোদিত বাজি প্রস্তুতকারকের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বাজি বাজারগুলিতেও সেই তালিকা টাঙানো থাকবে।
তাই বাজি কেনার আগে ক্রেতাদের QR কোডের উপর নির্ভর না করে অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের তালিকায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার নাম যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, নির্ধারিত সময়সীমা ও শব্দবিধি মেনে কালীপুজো এবং ছটপুজোয় বাজি ফাটানো নিশ্চিত করা।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business