ভূটানে হিমবাহের হ্রদ ফেটে হড়পা বান! বাংলা ও অসমের ৫টি জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি
কাঠমাণ্ডু: ভূটানে হিমবাহের হ্রদের জল উপচে হড়পা বান বা জিএলওএফ (GLOF)-এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। জলরাশির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষের কারণে বন্ধ…
কাঠমাণ্ডু: ভূটানে হিমবাহের হ্রদের জল উপচে হড়পা বান বা জিএলওএফ (GLOF)-এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। জলরাশির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একটি হাইওয়ের অংশও। এখনও পর্যন্ত ভূটানে হতাহতের কোনো খবর না মিললেও, এই ঘটনার জেরে সঙ্কোশ নদীতে আকস্মিক জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় ভারত অংশে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও অসমে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভূটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ‘শিন্তাপু হ্রদ’ (Shintaphu Lake) থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হ্রদের জল উপচে পড়ার ঘটনা ঘটে। এটি ভূটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের অন্যতম। পুনাখা অঞ্চলের গুমা গেওগ-এর দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা চিওগের সোলার ইরিগেশন লিফ্টিং সিস্টেমটি এই বন্যায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এর কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও জোমলিংথাং এলাকায় পুনাখা-গাসা হাইওয়ের ওপর প্রচুর জলোচ্ছ্বাসের কাদা ও ভাঙা অংশ এসে জমে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
বাংলা ও অসমে লাল সতর্কতা এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষ সরিয়ে নেওয়া
ভূটানের পুনাসাংছু নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সঙ্কোশ নদী’ নামে পরিচিত। এই নদীর জলস্তর হঠাৎ বৃদ্ধি পেতে পারে আশঙ্কা করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে জোরদার প্রস্তুতি নেওয়া হয়:
আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম এবং অসমের ধুবরি জেলা সহ উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে৷ কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এবং বক্সিরহাটে এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF)-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শাহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল ভবন, কমিউনিটি হল এবং চা বাগান এলাকার মোট ১৮টি ত্রাণ শিবিরে প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া মোট ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে সুরক্ষিত স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
ভূটান প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। সঙ্কোশ নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের আগামী দিনেও নদী থেকে দূরে এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিয়ার বেলগ্রেডে আল্লাহু আকবর স্লোগান দিয়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে জঙ্গি হামলার চেষ্টা
ল্যাটিন আমেরিকায় ডানপন্থী ঝোঁক থমকে দিয়ে ব্রাজিলের মসনদে ফিরলেন লুলা দা সিলভা