অর্ণবের তাণ্ডবের মাঝেই ফের দুর্যোগের ভ্রূকুটি বঙ্গোপসাগরে! জোড়া ঝড়ের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা
কলকাতা: অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়া অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে আরও একটি সম্ভাব্য নিম্নচাপ বা ঝড়ের ভ্রূকুটি দেখা…
কলকাতা: অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়া অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে আরও একটি সম্ভাব্য নিম্নচাপ বা ঝড়ের ভ্রূকুটি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস, অর্ণবের স্থলভাগ অতিক্রম করার সুবাদে তৈরি হওয়া অনুকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নভেম্বরের শুরুর দিকে ওড়িশা উপকূলের দিকে আরও একটি নতুন ঝড় ধেয়ে আসতে পারে। যদিও মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
গত মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মধ্যবর্তী অংশে, ইয়ানামের ঠিক দক্ষিণে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়টির কেন্দ্রে স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছেছিল ১৪০ কিলোমিটারে। যদিও মূল ভূখণ্ডে ঢোকার মুখে এর তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পায়, তবুও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডব এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইন্ডিয়ান মেটিরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD) ডপলার রাডারের সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় সম্ভাব্য ঝড় নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় একাধিক আবহাওয়া মডেল (যেমন ইসিএমডব্লিউএফ, আইএমডি জিএফএস ইত্যাদি) ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় থাকা একাধিক সিস্টেমের প্রভাবে আগামী ১ থেকে ২ নভেম্বরের কাছাকাছি সময়ে নতুন করে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য এই সিস্টেমটি ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট বার্তা, জটিল এই আবহাওয়াবিজ্ঞানের অঙ্কে সব মডেল সবসময় নির্ভুল ফল দেয় না। অতীতে অর্ণবের গতিপ্রকৃতি বা ল্যান্ডফরের সময়ও কিছু মডেলে হিসাবের ফারাক দেখা গিয়েছিল। ফলে এখনই নিশ্চিতভাবে নতুন কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও ওড়িশার ওপর নজর
ইতিমধ্যেই অর্ণবের জেরে দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। এর পরপরই যদি দ্বিতীয় কোনো নিম্নচাপ দানা বাঁধে, তবে তা ওই অঞ্চলের জনজীবন, কৃষি এবং উপদ্রুত এলাকার ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জলরাশি এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ বারবার এই ধরনের সাইক্লোজেনেসিস বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
পরিস্থিতি পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত গুজবে কান না দিয়ে কেবল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর সরকারি বুলেটিন ও নির্দেশিকা মেনে চলার জন্যই সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথমবার! পাকিস্তানি মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ মোদী সরকারের
অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ঘণ্টায় ১৩০ কিমি বেগে বইছে হাওয়া