বেশি দামে কি সত্যিই সেরা SUV বায়ন? - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেশি দামে কি সত্যিই সেরা SUV বায়ন?

Spread the love

গুরুগাঁও: নতুন ২০২৬ Hyundai Bayon ভারতের বাজারে লঞ্চ হয়েছে। প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ৯.৯৯ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের পরিচিত Hyundai Venue-র দাম শুরু হচ্ছে ৭.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। দুটি SUV-ই আধুনিক ফিচার, আরামদায়ক কেবিন এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি। তবে দামের পার্থক্য, ইঞ্জিনের বিকল্প, কেবিনের জায়গা এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার নিরিখে কোন গাড়িটি বেশি লাভজনক? তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাজেট ও ইঞ্জিনের বৈচিত্র্যে ভেন্যু এগিয়ে থাকলেও জায়গা, কিছু প্রিমিয়াম ফিচার এবং ব্যবহারিক সুবিধায় বায়নের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে।

দাম কত? বাজেটে এগিয়ে Hyundai Venue

দামের দিক থেকে Hyundai Venue স্পষ্টতই বেশি সাশ্রয়ী। বায়নের তুলনায় কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ থাকায় প্রথমবার SUV কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের কাছে ভেন্যু আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

মডেল পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম
Hyundai Bayon ৯.৯৯ লক্ষ থেকে ১৭.৯৯ লক্ষ টাকা উপলব্ধ নয়
Hyundai Venue ৭.৯৯ লক্ষ থেকে ১৪.৯৯ লক্ষ টাকা ৯.৯৪ লক্ষ থেকে ১৫.৮২ লক্ষ টাকা

সব দাম এক্স-শোরুম।

Hyundai Bayon মোট সাতটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। এতে একটি পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে ম্যানুয়াল ও CVT অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের বিকল্প রয়েছে। অন্যদিকে, ভেন্যুর পেট্রোল সংস্করণের দাম শুরু ৭.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। ডিজেল সংস্করণও বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

টপ-স্পেক ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে বায়নের সর্বোচ্চ দাম ১৭.৯৯ লক্ষ টাকা, যেখানে ভেন্যুর সর্বোচ্চ উল্লেখিত ডিজেল অটোমেটিক সংস্করণের দাম ১৫.৮২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, বায়ন কিনতে গেলে তুলনামূলকভাবে বেশি বাজেট রাখতে হবে। তবে অতিরিক্ত খরচের বিনিময়ে কিছু বাড়তি ফিচারও পাওয়া যাচ্ছে।

আকারে বড় Bayon, লাগেজ রাখার জায়গাতেও এগিয়ে

দুটি SUV-র মাপের তুলনা করলে বায়নের সুবিধা স্পষ্ট। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, হুইলবেস এবং বুট স্পেসের নিরিখে এটি ভেন্যুর চেয়ে বড়। ফলে যাঁরা কেবিনে বেশি জায়গা এবং দীর্ঘ সফরে অতিরিক্ত লাগেজ রাখার সুবিধা চান, তাঁদের কাছে বায়ন বেশি উপযোগী হতে পারে।

মাপ Hyundai Bayon Hyundai Venue
দৈর্ঘ্য ৪,২৪৫ মিমি ৩,৯৯৫ মিমি
প্রস্থ ১,৮১০ মিমি ১,৮০০ মিমি
উচ্চতা ১,৬০৫ মিমি ১,৬৬৫ মিমি
হুইলবেস ২,৬০০ মিমি ২,৫২০ মিমি
বুট স্পেস ৫০৫ লিটার ৩৭৫ লিটার

বায়ন ভেন্যুর তুলনায় ২৫০ মিমি লম্বা এবং এর হুইলবেস ৮০ মিমি বেশি। বুট স্পেসের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। বায়নে ৫০৫ লিটার জায়গা পাওয়া যায়, যেখানে ভেন্যুতে রয়েছে ৩৭৫ লিটার। পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, বড় স্যুটকেস বহন কিংবা নিয়মিত বেশি মালপত্র নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত জায়গা কাজে আসতে পারে।

অন্যদিকে, উচ্চতায় ভেন্যু এগিয়ে। এর উচ্চতা ১,৬৬৫ মিমি, যেখানে বায়নের উচ্চতা ১,৬০৫ মিমি। দুটি গাড়ির মধ্যে এই পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে বসার আরাম ও দৃশ্যমানতার তুলনা করতে গেলে সরাসরি টেস্ট ড্রাইভ করাই ভালো।

ডিজাইন ও রঙের বিকল্প

দুটি SUV-তেই মোট ছয়টি করে রঙের বিকল্প রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। বায়নে Atlas White, Ecotronic Grey, Titanium Black, Golden Bronze, Classy Blue এবং Fiery Red পাওয়া যায়। ভেন্যুর বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে Atlas White, Titan Grey, Abyss Black, Mystic Sapphire, Hazel Blue এবং Dragon Red।

নির্বাচিত রঙে ডুয়াল-টোন কালো ছাদ পাওয়া যায়। বায়নের Titanium Black ও Classy Blue এবং ভেন্যুর Mystic Sapphire ও Hazel Blue রঙে ম্যাট ফিনিশের বিকল্পও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাহ্যিক নকশার ক্ষেত্রে ভেন্যুতে সামনে ও পিছনে কানেক্টেড লাইট বার রয়েছে। বায়নে দেওয়া হচ্ছে ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল, যেখানে ভেন্যুতে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল। ফলে বায়নের চেহারায় তুলনামূলকভাবে বড় চাকার উপস্থিতি বেশি চোখে পড়তে পারে।

ফিচার ও নিরাপত্তা: দুই গাড়িতেই আধুনিক সরঞ্জাম

ফিচারের তালিকায় Hyundai Bayon ও Venue-র মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। দুটি গাড়িতেই ১২.৩ ইঞ্চির সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ওয়্যারলেস Apple CarPlay ও Android Auto, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, আটটি স্পিকার-সহ BOSE সাউন্ড সিস্টেম, পুশ-বাটন স্টার্ট এবং কানেক্টেড কার প্রযুক্তি রয়েছে।

দুটি SUV-তেই সামনের ভেন্টিলেটেড সিট, লেদারেট আপহোলস্ট্রি, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, পিছনের AC ভেন্ট, রেন-সেন্সিং ওয়াইপার, অটোমেটিক হেডল্যাম্প এবং ক্রুজ কন্ট্রোলের মতো সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রয়েছে ছয়টি এয়ারব্যাগ, Level-2 ADAS, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেম।

তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচারে বায়ন এগিয়ে, আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে ভেন্যু বাড়তি সুবিধা দেয়।

Hyundai Bayon-এর বাড়তি সুবিধা

  • ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম
  • প্যানোরামিক সানরুফ
  • চালকের আসনে ৮-ওয়ে ইলেকট্রিক অ্যাডজাস্টমেন্ট
  • স্টিয়ারিংয়ে টিল্ট ও টেলিস্কোপিক অ্যাডজাস্টমেন্ট
  • বিল্ট-ইন ড্যাশক্যাম
  • CVT সংস্করণে ড্রাইভ মোড

Hyundai Venue-এর বাড়তি সুবিধা

  • ১২.৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম
  • পিছনের জানালায় সানশেড
  • Eco, Normal ও Sport ড্রাইভ মোড
  • Sand, Mud ও Snow ট্র্যাকশন মোড

ভেন্যুর টাচস্ক্রিনের মাপ বড় হলেও বায়নে প্যানোরামিক সানরুফ, চালকের আসনের বেশি অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং ড্যাশক্যামের মতো সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, ভেন্যুর ট্র্যাকশন মোড বিভিন্ন রাস্তা ও পিচ্ছিল পৃষ্ঠে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বাড়তি বিকল্প দিতে পারে।

দুটি গাড়িতেই ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও Level-2 ADAS থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে ADAS-এর নির্দিষ্ট ফিচার, কার্যকারিতা এবং কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন সরঞ্জাম মিলবে, তা কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের তালিকা থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইঞ্জিনের বিকল্পে Venue অনেকটাই এগিয়ে

ইঞ্জিনের বৈচিত্র্য Hyundai Venue-র অন্যতম বড় সুবিধা। বায়নে রয়েছে একটি ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন। অন্যদিকে, ভেন্যুতে পেট্রোলের দুটি বিকল্পের পাশাপাশি ডিজেল ইঞ্জিনও পাওয়া যায়।

ইঞ্জিন Hyundai Bayon Hyundai Venue
১.২ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল নেই ৮৩ PS, ১১৫ Nm
১.০ লিটার টার্বো-পেট্রোল নেই ১২০ PS, ১৭২ Nm
১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ১১৫ PS, ১৪৪ Nm নেই
১.৫ লিটার ডিজেল নেই ১১৬ PS, ২৫০ Nm

বায়নের ১.৫ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল ও CVT অটোমেটিক ট্রান্সমিশন পাওয়া যায়। ভেন্যুর ১.২ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনে রয়েছে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স। ১.০ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল অথবা ৭-স্পিড DCT এবং ডিজেল ইঞ্জিনে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল অথবা ৬-স্পিড অটোমেটিকের বিকল্প দেওয়া হয়েছে।

শুধু ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিনের তুলনা করলে বায়নের ১.৫ লিটার ইউনিট বেশি শক্তিশালী। এর ক্ষমতা ১১৫ PS এবং টর্ক ১৪৪ Nm। ভেন্যুর ১.২ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিন ৮৩ PS শক্তি ও ১১৫ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।

তবে ভেন্যুর টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন ১২০ PS শক্তি ও ১৭২ Nm টর্ক দেয়। ডিজেল সংস্করণে টর্কের পরিমাণ ২৫০ Nm। ফলে বেশি টর্ক, টার্বো-পেট্রোলের পারফরম্যান্স অথবা ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য ভেন্যু বেশি উপযুক্ত হতে পারে।

বায়নের ১.৫ লিটার ইঞ্জিনটি Hyundai Creta, Kia Seltos এবং Hyundai Verna-র মতো গাড়িতেও ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্যতা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বিচার করতে হলে শুধু ইঞ্জিনের মাপ নয়, বাস্তব ব্যবহার ও মালিকদের অভিজ্ঞতাও বিবেচনা করা উচিত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, Hyundai জানিয়েছে বায়নে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে CNG পাওয়ারট্রেন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বিকল্প বাজারে এলে চলতি খরচ কমাতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য বায়ন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে CNG সংস্করণের দাম ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত সেটিকে বর্তমান কেনাকাটার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করা ঠিক হবে না।

তাহলে কোন SUV কেনা বেশি ভালো?

Hyundai Venue বেশি যুক্তিসঙ্গত পছন্দ হতে পারে, যদি আপনার অগ্রাধিকার হয় কম দামে SUV কেনা, একাধিক ইঞ্জিন ও ট্রান্সমিশনের বিকল্প পাওয়া এবং পেট্রোলের পাশাপাশি ডিজেল সংস্করণ বেছে নেওয়া। এর প্রারম্ভিক দামও বায়নের তুলনায় ২ লক্ষ টাকা কম।

অন্যদিকে, Hyundai Bayon বেশি উপযোগী হতে পারে, যদি আপনার প্রয়োজন হয় বড় বুট স্পেস, বেশি হুইলবেস, ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল, প্যানোরামিক সানরুফ, চালকের আসনে ৮-ওয়ে ইলেকট্রিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং বিল্ট-ইন ড্যাশক্যামের মতো ফিচার। তবে এসব সুবিধার জন্য বেশি টাকা খরচ করতে হবে এবং বর্তমানে ইঞ্জিনের বিকল্পও সীমিত।

দামের নিরিখে Hyundai Venue এগিয়ে থাকলেও বেশি জায়গা ও কিছু প্রিমিয়াম সুবিধার জন্য Hyundai Bayon বিবেচনা করা যেতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের বাজেট, দৈনিক যাতায়াত, সম্ভাব্য বার্ষিক চলার দূরত্ব এবং পছন্দের ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী অন-রোড দাম মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *