Student Suicide Case: ‘বাবা, আমি মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি’, মোবাইলে ভিডিয়ো করার পর যা করলেন যুবক… | Uttar Pradesh Student Suicide Case: 19 Year Old Leaves Emotional Video Message
ঝাঁসি: রুমের মধ্যে পড়ে যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পাশে পড়ে পিস্তল। আর মোবাইল। সেই মোবাইল খতিয়ে দেখতে গিয়েই সামনে এল একটি ভিডিয়ো। যেখানে বাবাকে আবেগঘন হয়ে যুবক বলছেন, ‘বাবা, আমি মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি।’ ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির। বাবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার থেকে গুলি চালিয়ে বছর উনিশের ওই যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে। মৃত ছাত্রের নাম লাভ প্যাটেল।
পুলিশ তদন্তে নেমে বিএ পড়ুয়া ওই যুবকের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিয়ো উদ্ধার করে। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ভিডিয়োটি রেকর্ড করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে বাবাকে আবেগঘন বার্তা দিতে শোনা যায় লাভকে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাভের বাবার নাম মুন্নালাল প্যাটেল। লাভ একমাত্র ছেলে। মুন্নালাল প্যাটেল অবসরপ্রাপ্ত গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক।
রবিবার বাড়ির ভিতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। ঝাঁসির গুরসারাই থানার অন্তর্গত ওই বাড়ির একটি ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় লাভকে। তাঁর কাছেই পড়েছিল বাবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাঁকে দ্রুত স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ লাভের বাবা মুন্নালাল ও তাঁর স্ত্রী হেমলতা চাষের জমিতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একাই ছিলেন লাভ। প্রায় দু’ঘণ্টা পরে বাড়ির ভিতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরা বাড়িতে পৌঁছে দেখেন, ভিতর থেকে দরজা বন্ধ।
এরপর মুন্নালালকে ফোন করে খবর দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয় এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মোবাইলে উদ্ধার ভিডিয়ো, বাবাকে কী বলেছিলেন লাভ?
তদন্ত চলাকালীন লাভের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিয়ো উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ওই ভিডিয়োতে বাবাকে উদ্দেশ্য করে লাভকে বলতে শোনা যায়, “পাপা, টাকা নিজের কাছে রাখো, এবার আমি মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি।” ভিডিয়োতে বাবাকে সমস্যায় ফেলার জন্য ক্ষমাও চান। পাশাপাশি, নিজের এই সিদ্ধান্তের জন্য পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজনকে দায়ী করছেন না বলেও জানান লাভ। পুলিশ ভিডিয়োটি খতিয়ে দেখছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ছেলে মানসিক চাপে ছিল, পুলিশকে জানালেন বাবা-
লাভের বাবা মুন্নালাল পুলিশকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ছেলে যথেষ্ট মানসিক চাপে ছিল। রাতে ঘুমোতেও সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। সেই কারণে ওষুধও খাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত লাভের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে লাভের মা সংগীতা প্যাটেলের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, তিনিও আত্মহত্যা করেন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে বাবার সঙ্গেই থাকতেন লাভ। তিনি সংগীতা ও মুন্নালালের একমাত্র সন্তান ছিলেন। পরে হেমলতাকে বিয়ে করেন মুন্নালাল।